Illegal Activities

ডাকঘরে সন্দেহজনক পার্সেল, শাড়ির ভাঁজে মিলল মাছরাঙার পাখির পালক, ধৃত পাচারকারী

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পোস্ট অফিসে সন্দেহজনক বড় বাক্স খুলে শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ৪১টি প্যাকেট মাছরাঙা পাখির রঙিন পালক উদ্ধার করে পুলিশ।

এই শাড়িতেই লুকোনো ছিল
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫০

শাড়ি পাঠানোর নামে বেআইনি কার্যকলাপ। বাক্সে শাড়ির নামে ঠাসা রয়েছে মাছরাঙ্গা পাখির রঙিন পালক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পোস্ট অফিসে এমনই ঘটনা ঘটেছে। শাড়ি পাঠানোর নাম করে এক ব্যক্তি ডাকঘরে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু বড়সড় বাক্সটি দেখেই ডাক বিভাগের কর্মীদের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। সেই সন্দেহই শেষ পর্যন্ত ফাঁস করে দেয় এক আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সম্ভাব্য যোগসূত্র।

সোমবার দুপুরে ঢোলাহাট থানার উত্তরাবাদ এলাকার বাসিন্দা মিনাতুল্লাহ নেগাবন একটি বিশাল বাক্স নিয়ে পোস্ট অফিসে যান। কর্মীদের তিনি জানান, বাক্সের ভেতরে রয়েছে শাড়ি, যা পার্সেল করে পাঠাতে চান। তবে বাক্সের আকার ও ওজন দেখে ডাককর্মীদের সন্দেহ হয়। তাঁরা মিনাতুল্লাহকে পার্সেলটি খুলে দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন। সেই সময়ই পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে পোস্ট অফিস ছেড়ে ওই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কর্মীদের তৎপরতায় তাঁকে ধরে ফেলা হয়।

এরপর বাক্স খুলতেই অবাক করা দৃশ্য ধরা পরে। শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে রাখা ছিল অসংখ্য ছোট প্যাকেট। প্রতিটি প্যাকেটেই রঙিন মাছরাঙা পাখির পালক ভরা ছিল। তড়িঘড়ি বিষয়টি বারুইপুর থানায় জানানো হয়। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মোট ৪১টি প্যাকেট মাছরাঙার পালক উদ্ধার করে। ঘটনায় মিনাতুল্লাহ নেগাবনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধৃত ব্যক্তি দাবি করেছেন, তিনি বিহার থেকে এই পালক সংগ্রহ করেছেন। যদিও তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

পুলিশের অনুমান, এই পালক বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যেই শাড়ির মধ্যে লুকিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। পালকগুলি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন দেশে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত—তা জানতে তদন্ত চলছে। এই ঘটনায় ডাক বিভাগের কর্মীদের তৎপরতায় বড়সড় পাচারচক্র ধরা পড়তে পারে বলে তদন্তকারীরা মনে করছেন।


Share