Supreme Court

আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মীদের নিয়োগ সংক্রান্ত সব আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

সোমবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীদের দাবি একেবারেই আইনসম্মত নয়। তাঁদের কেন বহাল রাখতে হবে তা নিয়ে বাস্তবসম্মত যুক্তি তাঁরা আদালতের কাছে রাখতেই পারেননি।

সুপ্রিম কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৪

সোমবার পশ্চিমবঙ্গের স্বীকৃত মাদ্রাসার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের দায়ের করা একগুচ্ছ জনস্বার্থ মামলা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তাঁরা এই আবেদনগুলিতে নিয়মিত নিয়োগের স্বীকৃতি এবং রাজ্য সরকারের গ্রান্ট-ইন-এইড প্রকল্পের আওতায় বেতন প্রদানের দাবি জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটির রিপোর্ট বহাল রেখে আদালত তাঁদের দাবি খারিজ করে দিয়েছে।

সোমবার শীর্ষ আদালতের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মোট ৩৬১ জন আবেদনকারীর মধ্যে ১৩ জনের মামলার নথি নমুনা হিসেবে বিস্তারিত ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। আদালত মনে করেছিল, এই ১৩ জনের মধ্যে কেউ যদি আইনি ভিত্তিতে স্বস্তি পাওয়ার যোগ্য বলে প্রমাণিত হন, তবে বাকি আবেদনগুলিও বিবেচনা করা হবে। কিন্তু আদালতের পর্যবেক্ষণ, ওই ১৩ জনের কেউই তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হননি। তাই আদালত জানিয়েছে, শুধু ওই ১৩ জন নন, বাকি সমস্ত আবেদনকারীর দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই সমস্ত জনস্বার্থ মামলাকে ‘মেধাহীন’ বলে খারিজ করা হয়েছে।

এই মামলায় ৪০টিরও বেশি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল। যেখানে প্রায় ৩৬১ জন ব্যক্তি নিজেদের রাজ‍্যের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসায় শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত বলে দাবি করেছিলেন। তাঁরা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের অনুযায়ী সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন আইন, ২০০৮-কে ঘিরে। ওই আইনের মাধ্যমে স্বীকৃত মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি কমিশন গঠন করা হয়। ২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ আইনটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। ২০১৫ সালে ডিভিশন বেঞ্চও একক বেঞ্চের সেই রায় বহাল রাখেছিল। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের ডিভিশনের রায়ে স্থগিতাদেশ দেয়। এর পরে ২০২০ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ মহম্মদ বনাম কাঁথির রহমানিয়া হাই মাদ্রাসার ম‍্যানেজিং কমিটির মামলায় ২০০৮ সালের এই আইনটিকে সাংবিধানিক ভাবে বৈধ বলে ঘোষণা করে। এরপরে ২০১৫ সালে হাইকোর্টের রায় এবং ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের মধ্যবর্তী সময়ে যে নিয়োগগুলির সেগুলির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এই জটিলতা খতিয়ে দেখতে ২০২৩ সালে সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। কমিটি তদন্ত শেষে জানায়, ওই সময়কালে হওয়া নিয়োগগুলি বৈধ নয়; বরং তা অবৈধ। এই কমিটির রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করেই সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন। যদিও ২০২৪ সালের অগাস্টে আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে তাঁদের চাকরি সুরক্ষিত রাখে। ২০২৫ সালের মে মাসে যাঁরা বাস্তবে মাদ্রাসাগুলিতে কাজ করছিলেন, তাঁদের বেতন প্রদানের নির্দেশও দেয়। শীর্ষ আদালত সে শুনানিতে জানায়, তা চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল।

সোমবারের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীদের দাবি একেবারেই আইনসম্মত নয়। তাঁদের কেন বহাল রাখতে হবে তা নিয়ে বাস্তবসম্মত যুক্তি তাঁরা আদালতের কাছে রাখতেই পারেননি। ফলত তাঁদের নিয়োগের স্বীকৃতি, চাকরি বহাল রাখা এবং সরকারি অনুদানভিত্তিক বেতন প্রদানের কোনও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।


Share