Indian Railways

বালিশ-চাদর-কম্বল-তোয়ালে ব্যাগে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা! আরটিআই রিপোর্টে সামনে এক কোটি ২৭ লক্ষ শয্যাসামগ্রী চুরির তথ্য, কড়া নজরদারিতে রেল

২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ট্রেনের এসি কামরা থেকে অন্তত এক কোটি ২৭ লক্ষ শয্যাসামগ্রী উধাও হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ০৪:০৮

তথ্যের অধিকার আইন (আরটিআই)-এর মাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর করা আরটিআই আবেদনের জবাবে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন ট্রেনের এসি কামরা থেকে অন্তত এক কোটি ২৭ লক্ষ শয্যাসামগ্রী উধাও হয়েছে। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রেলের নিরাপত্তা ও যাত্রী পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

এসি কামরার যাত্রীদের জন্য ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে সাধারণত একটি বালিশ, দু’টি চাদর, একটি কম্বল এবং দু’টি তোয়ালে সরবরাহ করা হয়। রাতের ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় আট লক্ষ যাত্রী এই লিনেন পরিষেবার সুবিধা পান। কোভিড-১৯ অতিমারির সময় সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে এই পরিষেবা বন্ধ রাখা হলেও, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে তা আবার সম্পূর্ণভাবে চালু হয়। এরপর ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত চুরির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শয্যাসামগ্রী চুরির ঘটনা ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি চুরি হয়েছে হাত বা মুখ মোছার তোয়ালে। চুরির বহরে তার পরেই রয়েছে চাদর। এই সময়ের মধ্যে ২৩.৫৯ লক্ষ বালিশের ওয়াড় চুরি হয়েছে। কম্বল চুরি হয়েছে ১২.৯৫ লক্ষ আর বালিশ চুরি হয়েছে ২.৭৬ লক্ষ।

‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশের সব রেল জোন ও ডিভিশনের কাছে আরটিআই আইনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৬টি রেল জোনের অধীন ৫৪টি ডিভিশন তথ্য দিয়েছে। রেলের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি শয্যাসামগ্রী চুরির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ১০টি ডিভিশনে। এগুলি হল রাজস্থানের বিকানের, জোধপুর ও জয়পুর, ঝাড়খণ্ডের রাঁচী, দিল্লি, মহারাষ্ট্রের মুম্বই, গুজরাতের অহমদাবাদ, বিহারের শোনপুর ও দানাপুর এবং ছত্তীসগঢ়ের বিলাসপুর ডিভিশন।

চুরির ঘটনার জেরে চার বছরে শয্যাসামগ্রী সরবরাহ করা সংস্থার প্রায় ১০৫ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুক্তিভিত্তিক রেলকর্মীদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণের টাকা তোলা হয়েছে। চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে রেল মন্ত্রকের এক মুখপাত্র বলেন, “বিষয়টি উদ্বেগজনক। এই ঘটনা রোখার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

এসি কামরার শয্যাসামগ্রী চুরির ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে রেলের অনুমান, কিছু যাত্রী রেলকর্মীদের নজর এড়িয়ে বালিশ, চাদর, কম্বল ও তোয়ালে নিজেদের ব্যাগে ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। এই প্রবণতা রুখতে রেলকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীদের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি নজরদারি আরও জোরদার করার দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।


Share