Sand Syndicate

‘৮ হাজারের বালি ১৬ হাজারে!’, মাফিয়া রাজের অভিযোগে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর, ক্ষোভে ফুঁসছে কুড়মি সমাজ

অভিযোগ, প্রতি ট্র্যাক্টর বালির জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হলেও চালানে তার কোনও উল্লেখ থাকছে না।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৩:৩০

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেও বালিঘাটে অস্বচ্ছতা ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ ঘিরে ফের সরব আদিবাসী কুড়মি সমাজ। অভিযোগ, অনুমোদিত ঘাট থেকে বালি তোলার সময় চালান দেওয়া হলেও সেখানে নেওয়া টাকার অঙ্ক উল্লেখ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে বাঁকুড়ার সোনামুখীর উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আট হাজার টাকার বালি ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অবৈধ ঘাট বন্ধ হওয়ার সুযোগে একটি চক্র সাধারণ মানুষের কাছে বিজেপি সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি। প্রয়োজনে বালির দাম নির্ধারণ করে দেওয়ার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর পুরুলিয়ার অনুমোদিত বালিঘাটগুলি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি পুঞ্চার একটি ঘাট চালু হতেই নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, প্রতি ট্র্যাক্টর বালির জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা নেওয়া হলেও চালানে তার কোনও উল্লেখ থাকছে না। ফলে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।

কুড়মি সমাজের কর্মী নিবাস মাহাতোর দাবি, রয়্যালটি বাবদ টাকা নেওয়া হলেও চালানে কেন তা লেখা হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন আমরা ঘাট পরিচালকের কাছে তুলেছিলাম। কিন্তু তিনি জানান, চালানে টাকার অঙ্ক উল্লেখ বাধ্যতামূলক এমন কোনও নির্দেশ তাঁর কাছে নেই। ক্ষুব্ধ কুড়মি সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি স্পষ্ট নির্দেশ না আসা পর্যন্ত বালি তোলা বন্ধ রাখা হোক।

জেলার বিভিন্ন বালিঘাটে ইচ্ছেমতো দাম নেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পুরুলিয়ার নৃপেণ মাহাতো। তাঁর অভিযোগ, কোথাও ট্র্যাক্টর পিছু চার হাজার, কোথাও আবার সাত হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বহন খরচ আলাদা হতে পারে, কিন্তু রয়্যালটির হার এক হওয়া উচিত বলেই দাবি তাঁর। তিনি জানান, আগের সরকার আদালতে তথ্য দিতে টালবাহানা করেছিল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে আমরা আশাবাদী। গরিব মানুষের কথা ভেবে নির্দিষ্ট বালি দর বেঁধে দেওয়া হোক।

আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিত মাহাতো বলেন, ‘বালির সিন্ডিকেট নিয়ে আমাদের দীর্ঘ লড়াই। এই দুর্নীতির জন্যই আমরা নো ভোট টু তৃণমূলের ডাক দিয়েছিলাম। সরকারি ঘাট থেকে বালি তুলে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, অথচ চালানে টাকার অঙ্ক থাকবে না কেন? এই প্রশ্নের জবাব আমরা ঘাট পরিচালক বা তৎকালীন প্রশাসন কারও থেকেই পাইনি। আমরা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা চাই।’

এ দিকে, পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় এবং কাশীপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদাও স্বীকার করেছেন যে, বালিঘাট নিয়ে একাধিক অভিযোগ তাঁদের কাছেও এসেছে। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।


Share