TMC Councilor Arrest

চাহিদা মতো তোলার টাকা না দিতে পারায় দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেফতার ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন তাঁকে ধরতে বাড়িতে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ যায়। গোলমালের আশঙ্কায় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ছিলেন। তার পরে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহূর্তে তিনি ঠাকুরপুকুর থানায় রয়েছেন।

গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ১০:৫১

চাহিদা মতো তোলার টাকা না দেওয়ায় দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ। এক ব‍্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার তৃণমূল কাউন্সিলরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

ধৃতের নাম সুদীপ পোল্লে। তাঁকে ঠাকুরপুকুর থানায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, তৃণমূল জমানায় এক ব‍্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলার টাকা চাওয়া হয়। পাঁচ লক্ষ টাকা না চাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি সেই টাকা না দিলে, দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে উঠেছে। শুক্রবার সুদীপের বিরুদ্ধে ঠাকুরপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব‍্যবসায়ী। পুলিশ সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখে। তার পরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার সকালে তাঁকে আলিপুর আদালতে হাজির করানো হবে।

ধৃত সুদীপ পোল্লে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। ১৬ নম্বর বোরোর তৃণমূলের চেয়ারম্যানও। এলাকায় প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। সুদীপ নিউ আলিপুর কলেজে ছাত্র পরিষদ দিয়ে রাজনীতি শুরু করেন। ২০১০ সালে পুরসভা নির্বাচনে জিতে এই ১২৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর হন। তবে তার আগে বেহালা এলাকায় বাড়ি বাড়ি খবরের কাগজ দিতেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁদের একটা পানের দোকানও ছিল। সুদীপ তাঁর দাদাদের সঙ্গে সেই দোকানও চালাতেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডে টানা কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে আসছেন। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজের রাজনৈতিক গুরু মনে করতেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, শোভনের ‘ঘনিষ্ঠ’ হিসাবে পরিচিতি থেকেই পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিট পান তিনি। পরে শোভনের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয়। জানা যায়, সেই থেকেই কলকাতার বর্তমান মেয়র তথা রাজ‍্যের প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন বলেও।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন তাঁকে ধরতে বাড়িতে ঠাকুরপুকুর থানার পুলিশ যায়। গোলমালের আশঙ্কায় পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা ছিলেন। তার পরে পুলিশের গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই মুহূর্তে তিনি ঠাকুরপুকুর থানায় রয়েছেন। তবে কী ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি লালবাজার।

এর আগেও এই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। গত ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বেহালার অক্সফোর্ট মিশন চার্চের ভিতরে ঢুকে তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের বিরুদ্ধে গুন্ডামি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন বিশপ রেভারেন্ড পরিতোষ ক্যানিং। তিনি এই বিষয়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি পুলিশি নিরাপত্তা চান বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, চার্চের অধীনে একটি কলেজে মহিলাদের নার্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মহিলা কলেজ হলেও সেখানে কোনও অনুমতি না নিয়েই তৃণমূল কাউন্সিলরের নাম করে তাঁর অনুগামীরা ঢুকে সেখানকার কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেয়। কলেজের অভ্যন্তরে একাধিক ভবন আছে, যা দীর্ঘ দিন ধরে জরাজীর্ণ। সেগুলি মেরামতির অনুমতি চেয়ে বরো অফিসে আবেদন জানানো হয়েছিল। চিঠি দেওয়ার পরেও অনুমতি আসেনি। কাউন্সিলর দলবল এসে সেখানে কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কর্মরত ঠিকাদারদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।


Share