Minister Indranil Sen

‘আমি থাকি বা না থাকি…’ সরাসরি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মন্তব্য রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের, রাজনৈতিক মহলে শুরু জল্পনা

বাম আমলে তিনি মূলত একজন জনপ্রিয় গায়ক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। যদিও সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে চলে আসেন ইন্দ্রনীল। লোকসভা ভোটে বহরমপুর থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল দল।

রাজ্যের মন্ত্রী তথা চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:১৮

আগামী বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে জল্পনা বাড়িয়ে তুললেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ইন্দ্রনীলের কথায়, তিনি এই দফতরে দায়িত্বে যদি নাও থাকেন, তিনি শিল্পী হিসেবে থাকবেন। বিধায়কসভা নির্বাচনের আগে চন্দননগরের বিধায়কের গলায় এমন সুর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

বুধবার রবীন্দ্র সদনে ‘বাংলা সঙ্গীত মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয়। সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যে মন্ত্রী তথা চন্দননগরের বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন বলেন, “চার-পাঁচ মাস পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থ বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলে যদি আমাকে দায়িত্বে রাখেন, আমি অবশ্যই কাজ করব।আর যদি না রাখেন, তা হলেও অনুরোধ থাকবে, এই কার্টেন ‘রেজার অনুষ্ঠান’ আগামী বছর থেকে যেন অন্য ভাবে আয়োজন করা হয়।” ‘মুখ‍্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে’ এই চার শব্দ বলে তিনি কী কোনও জায়গায় সংশয় প্রকাশ করতে চাইছেন? তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে গিয়েছে।

ইন্দ্রনীলের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে ‘থাকা বা না থাকার’ প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিত্ব থাকুক বা না থাকুক, শিল্পীসত্তা তাঁর সঙ্গে চিরকাল থাকবে। তাঁর এহেন বক্তব্য রাজনৈতিক ভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। তৃণমূলের সঙ্গে ইন্দ্রনীলের সম্পর্কের সমীকরণ কি পরিবর্তন হতে চলেছে বলেও উঠছে প্রশ্ন। তবে এই মন্তব্য যে নিছক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য, তা মানতেও নারাজ রাজনৈতিক মহল।

ইন্দ্রনীল সেনের রাজনৈতিক যাত্রাপথও কম চর্চিত নয়। বাম আমলে তিনি মূলত একজন জনপ্রিয় গায়ক হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। যদিও সরকারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে চলে আসেন ইন্দ্রনীল। লোকসভা ভোটে বহরমপুর থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছিল দল। কিন্তু তিনি জিততে পারেননি। তার পরেও রাজনীতির ময়দান ছাড়েননি। পরবর্তীতে হুগলির চন্দনগর থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। জায়গা পান রাজ্য মন্ত্রিসভায়। প্রায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় সমস্ত অনুষ্ঠানেই তাঁকে মঞ্চে দেখা যায়। 

বছর ঘুরলেই রাজ‍্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মন্ত্রীর এমন বক্তব্য স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল বাড়িয়েছে। তৃণমূলের অন্দরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কি এ বার তৃণমূল থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছেন? সেই প্রশ্নও উঠছে। সব মিলিয়ে, ইন্দ্রনীল সেনের বক্তব্যে জল্পনা আরও ঘনীভূত হল।


Share