Taratala Incident

তারাতলার ঘটনায় গ্রেফতার গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, পুরসভার দালাল-সহ পাঁচ জন, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ন’জনে

গুলজার নির্মাণকারী সংস্থা অয়ন ট্রেডার্সের হয়ে সুপারভাইজারের দায়িত্বে ছিলেন। বাকি তিন ধৃতেরা হল— শম্ভুনাথ বেহরা, দিবাকর ভান্ডারী এবং আব্দুল হামিদ।

তারাতলার দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ন'জন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারাতলা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১০:৪৮

তারাতলার গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় অবশেষে মালিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পরেই দিনভর তল্লাশি চালিয়ে মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ পাঁচ জনকে থানায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রাতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আরও তিনজনকে রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের আদালতে হাজির করানো হবে।

গতকালের ঘটনার পরে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। সেই মামলার প্রেক্ষিতে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত এবং গুলজার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। গুলজার নির্মাণকারী সংস্থা অয়ন ট্রেডার্সের হয়ে সুপারভাইজারের দায়িত্বে ছিলেন। বাকি তিন ধৃতেরা হল— শম্ভুনাথ বেহরা, দিবাকর ভান্ডারী এবং আব্দুল হামিদ।

তারাতলার ওই গুদামের মালিকই শম্ভুনাথ বেহরা। দিবাকর ভান্ডারী লেবার কনট্রাক্টর ছিল। আব্দুল হামিদ ওই গুদামের প্ল‍্যান অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার জন‍্য কলকতা পুরসভার হয়ে দালালি করেছিল। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হবে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অ‍্যাসিস্টান্ট কমিশনার জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, হোমিসাইড শাখার ওসি দেবাশিস দত্ত, হিরক দলপতি, গুন্ডা দমন শাখার সারফারাজ আহমেদ, সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য এবং সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মন্ডল। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ইন্সপেক্টর হিরক দলপতিকে রাখা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়ালের নির্দেশ, এই বিশেষ তদন্তকারী দলকে নেতৃত্ব দেবেন ডেপুটি কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ)। তিনি প্রতিদিন এই মামলাটির অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন। তা যথাযথ ভাবে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ)-এর কাছে তদন্তের অগ্রগতি কতটা হল তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন।

বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামটি ধসে পড়ে। কলকাতা পুরসভা, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, ডিএমজি, সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্ধারকাজ চালায়। ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত ২৯ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ন’জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০ জন আহত এখনও এসএসকেএম হাসপাতালের ভর্তি রয়েছেন। অনেক শ্রমিক অক্ষত রয়েছেন।

মৃতেরা হলেন, কৃষ্ণ চৌধুরী (ভাটপাড়া), রোহিত চৌধুরী (গাজিপুর), চন্দ্রমা চৌধুরী (কৃষ্ণনগর), রাহুল চৌধুরী (কৃষ্ণনগর), পাপ্পুকুমার রজক (জগদ্দল), ঘি কুমার (মুঙ্গের, বিহার), আসগর হোসেন (একবালপুর) এবং সোহেল সর্দার (বাসন্তী)।


Share