Taratala Incident

তারাতলায় গুদাম ভেঙে ৩ জনের মৃত্যু, ১৮ জন চিকিৎসাধীন, ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও ১২-১৫ জনের আশঙ্কা, ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী

তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তারাতলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১৮ জনের চিকিৎসা চলছে এসএসকেএম হাসপাতালে। দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

তারাতলার ঘটনায় মৃত তিন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারাতলা
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ ০৫:৪৪

তারাতলায় ভেঙে পড়া গুদামের ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন। ঠিক কত জন ভিতরে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে লোহা ও কংক্রিটের ভারী কাঠামোর নীচ থেকে এখনও আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে উদ্ধারকারী দলের দাবি। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী এবং তারা উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে। এর আগে থেকেই সেখানে দমকল ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর ছিলেন। বিকেল প্রায় পৌনে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তারাতলার ধ্বংসস্তূপ থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকি ১৮ জনের চিকিৎসা চলছে এসএসকেএম হাসপাতালে। দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

এর পরে নবান্নে ফিরে এসে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘যে হেতু বিধানসভা চলছে ক্ষতিপূরণ বা ইত্যাদি বিষয়ে আগামিকাল সকাল ১১টায় অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়ে বিবৃতি দেবো।’ তিনি আমাদের সিভিল ডিফেন্স, কলকাতা পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সকে ধন্যবাদ জানান। কারণ তাঁরা যদি দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ না করতেন, তা হলে এই মৃত্যুর সংখ্যা অনেক লম্বা হতো। ঘটনাস্থলে নিডিআরএফের দায়িত্বে আছেন যিনি, তাঁকেও ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সরাসরি নবান্ন থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং রাজ্য সরকারের তরফে একটি বিশেষ আপৎকালীন কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের সুবিধার্থে নবান্ন যে চারটি হেল্পলাইন নম্বর জারি করেছে, সেগুলি হল - ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩ ২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩ ২২৫৩৫১৮৫।

এ দিকে উদ্ধারকাজে গতি আনতে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে একাধিক ভারী ক্রেন। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেনও। ভেঙে পড়া কাঠামোকে আরও ধসে পড়া থেকে রুখতে ওই ক্রেনের সাহায্যে সেটিকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জুড়ে বিস্তৃত ছিল গুদামটি। ভিতরে কোনও আলাদা দেওয়াল বা কক্ষ না থাকায় ছাদ ধসে পড়তেই পুরো কাঠামো একসঙ্গে ভেঙে পড়ে। অতিরিক্ত চাপের জেরে বহু জায়গায় বেঁকে গিয়েছে লোহার বিম।

প্রথমে ধ্বংসস্তূপের পিছনের দিক দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। তবে সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। পরে হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে উপরে উঠে আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুরু কংক্রিটের স্তর ও লোহার বিমের বাধায় উদ্ধারকাজে সমস্যা তৈরি হয়। তবুও কিছু জায়গায় ছিদ্র করে ভিতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা আটকে পড়াদের অবস্থান চিহ্নিত করতেও সাহায্য করছে।

এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করে গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে নামানো হয়েছে স্নিফার ডগ। গুদামে কর্মরত বহু শ্রমিকের এখনও সন্ধান মেলেনি।

রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বড় জেনারেটর। পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য রাখা হয়েছে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স। কলকাতা পুরসভার পুরকমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষকর্তা উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় দেড় বছর ধরে ওই গুদামে নির্মাণকাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে কয়েক তলা উঁচু ছাদের কাঠামো আচমকাই ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, লোহার কাঠামোর উপর কংক্রিটের ভারী স্তর চাপানো হয়েছিল। সকাল থেকেই কাঠামোটি দুলছিল বলে অভিযোগ। তা পরীক্ষা করতে কয়েক জন শ্রমিক উপরে ওঠার পরই আচমকা ধস নামে এবং তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জমিটি বন্দর কর্তৃপক্ষের হলেও একটি চা সংস্থাকে লিজ়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সংস্থার তত্ত্বাবধানেই গুদামের নির্মাণকাজ চলছিল। গুদামের ঠিকাদারও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দুপুর ১২টার কিছু পরে দমকলের কাছে বিপর্যয়ের খবর পৌঁছোয়। এরপরই একাধিক ইঞ্জিন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে।


Share