Special Intensive Revision

এসআইআর-এর শুনানিতে ভোটার নথি জমা দিলেও প্রাপ্তিস্বীকার করা হচ্ছে না, আবার নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আর্জি, অযথা হয়রানি বন্ধ করুক। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার রক্ষা করতে যে পদ্ধতি কমিশন অবলম্বন করছে, তা ভুল। তাঁর সংযোজন, ভোটার তালিকা সংশোধন করা দরকার, কিন্তু বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে নয়।

জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৮

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে আবার নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন রাজ্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে দু’বার চিঠি দিলেন। এই নিয়ে মোট পাঁচ বার নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবারের লেখা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ভোটারদের মধ্যে অনেকে কাগজ জমা দিয়েছেন। তার কোনও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। তার পরে কমিশনের তরফে বলা হচ্ছে, ভোটারের কোনও কাগজ জমা হয়নি। বা তার কোনও রেকর্ড নেই। তার পরে সেই সমস্ত ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০০২ সালে ভোটার তালিকা ডিজিটাইজ করতেও গলদ রয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্ত‍ব‍্য, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্য নিয়ে ডিজিটাইজ করে ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। এর ফলে বাবার নাম, ভোটারের নামে বানান, সম্পর্ক, লিঙ্গপরিচয় চিহ্নিতকরণে ভুল হয়েছে। তাঁর দাবি, এই ভুলগুলিকেই কমিশন তথ‍্যগত ত্রুটি বা লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এসআইআর নিয়ে পঞ্চমবার লেখা চিঠিতে ভোটারের হয়রানি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, সামান্য বানান ভুলের জন্য ভোটারদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই খুব ছোট সমস্যা। বাড়ি বা অফিসে বসেই ঠিক করে নেওয়া যায়। তার বদলে নোটিস দিয়ে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। এতে ভোটারদের সময় এবং টাকা নষ্ট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিজেদের পুরোনো নির্দেশ মানছে না বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূলনত্রী। তিনি বলেন, “এর আগে বলা হয়েছিল, পুরোনো ভোটার তালিকার সঙ্গে মিল না থাকলে নোটিস দিয়ে ডাকা হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, যাদের সব তথ্য ঠিক আছে, তাদেরকেও নোটিস দিয়ে ডাকা হচ্ছে।”

মুখ‍্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে আর্জি, অযথা হয়রানি বন্ধ করুক। তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার রক্ষা করতে যে পদ্ধতি কমিশন অবলম্বন করছে, তা ভুল। তাঁর সংযোজন, ভোটার তালিকা সংশোধন করা দরকার, কিন্তু বৈধ ভোটারদের বাদ দিয়ে নয়।


Share