Messi Event Probe

মেসি ইভেন্টে টিকিট কেলেঙ্কারি ও ভিড় বিপর্যয়, অনলাইন টিকিট সংস্থার সিইও-সহ তিন কর্তার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ বিশেষ তদন্তকারী দলের

যুবভারতীতে মেসি অনুষ্ঠান ঘিরে ভিড় বিপর্যয় ও টিকিট দুর্নীতির অভিযোগে সিটের তীব্র তদন্ত। অনলাইন টিকিট সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের জেরা, আর্থিক অনিয়মের ইঙ্গিত।

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:১৮

সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিড় নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতা এবং টিকিট বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) শনিবার একটি বেসরকারি সংস্থার সিইও-সহ তিন শীর্ষ কর্তার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই সংস্থাটিই অনলাইনে টিকিট বিক্রির দায়িত্বে ছিল।

দিল্লি থেকে কলকাতায় এসে সংস্থার তিন প্রতিনিধি তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন। সিটের প্রাথমিক তদন্তে ভিড় সামলাতে ব্যর্থতার পাশাপাশি আর্থিক অনিয়মের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি। সেই কারণেই টিকিট বিক্রি করে মোট কত টাকা আয় হয়েছে, অনলাইনে বিক্রির সময় কীভাবে ও কার সঙ্গে বিভিন্ন ‘ডিল’ হয়েছে এই সব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তদন্তকারীরা।

সিট সূত্রে জানা গিয়েছে, বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে কারা টিকিট কিনেছিলেন, সেই তালিকাও সংস্থার কাছে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, টিকিট পাওয়ার জন্য কোনও প্রভাবশালী নেতা বা মন্ত্রীর তরফে চাপ ছিল কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে, লেক টাউনে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের সামনে স্থাপিত লিওনেল মেসির ৭০ ফুট মূর্তিকে ঘিরে রবিবার বিতর্কের জবাব দেন বিধাননগরের বিধায়ক ও দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। তাঁর দাবি, মূর্তিটি মেসির পছন্দ হয়েছে এবং ফুটবল তারকা নিজেই সেটির প্রশংসা করেছেন।

সুজিত বসু সামাজিক মাধ্যমে মেসির পোস্ট করা একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিয়ো ক্লিপকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে মূর্তিটি দেখা যাচ্ছে। কলকাতা সফরে মেসি যুবভারতীতে যাওয়ার আগে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি হোটেলে ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর গভীর রাতে শহরে পৌঁছে সেখানেই ওঠেন তিনি এবং সেখান থেকেই লেক টাউনে নিজের মূর্তির উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে সুজিত বসু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে যুবভারতীর মূল অনুষ্ঠানে তাঁকে দেখা যায়নি।

যুবভারতীর ঘটনাকে ঘিরে বিরোধী দল এবং নেটিজেনদের একাংশ ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও সুজিত বসুর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন। অরূপ বিশ্বাস ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব ছেড়েছেন, তবে সুজিত বসু এখনও মন্ত্রিসভার সদস্য। এ প্রসঙ্গে সুজিত বলেন, ‘সরকার একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। তার রিপোর্ট প্রকাশ না–হওয়া পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করব না।’


Share