Question paper leak

বজ্র আঁটুনি, ফসকা গেরো! স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কড়া নিয়মের মধ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠোর নিয়মের মাঝেও এমবিবিএস প্রথম প্রফেশনের ফিজিওলজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। শৌচাগার থেকে উদ্ধার নকল উত্তরপত্র মেলায় তদন্তে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০২৫ ০২:২৫

ডাক্তারি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক কঠোর নিয়ম চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সেই কঠোরতা সত্ত্বেও ফের উঠল প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। এমবিবিএস প্রথম প্রফেশনালের ফিজিওলজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে—এমনই অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকেরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মুকুল ভট্টাচার্য স্বীকার করেছেন, কঠোর পরীক্ষা ব্যবস্থার মধ্যেও কোথাও কোনও ফাঁক রয়ে গিয়েছে। প্রশ্নপত্র প্রিন্টিং থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছনোর পথেই ঘটেছে গোলমাল—এমনই ধারণা পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক-অধিকারিকদের। তাঁদের মতে, আগের তুলনায় পরীক্ষা অনেক বেশি নিয়মবদ্ধ হলেও শতভাগ নিরাপত্তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে—চ্যাট জিপিটির মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কয়েক মিনিটে উত্তরপত্র তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এমবিবিএস ফার্স্ট প্রফেশনের ফিজিওলজি পরীক্ষা। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে শুরু হয়ে পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর ২টায়। সূত্রের খবর, পরীক্ষার পরে ‘ডব্লিউবিউএইচইস  অবজারভাস গ্রুপ’-এ পর্যবেক্ষকরা নিজেদের কলেজে পরীক্ষা শেষের কথা পোস্ট করেন। এরপরই তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজের এক পর্যবেক্ষক জানান, শৌচাগার থেকে নকল উত্তরপত্র উদ্ধার হয়েছে। তিনি সেই উত্তরপত্রের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রুপে পাঠালে দেখা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তার হুবহু মিল।

বিষয়টি জানানো হয় রাজ্যের হেলথ গ্রিভান্স রিড্রেসাল কমিটিকে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. সৌরভ দত্ত জানান, পরীক্ষা ব্যবস্থা আগের থেকে অনেক স্বচ্ছ হয়েছে। তবুও কিছু অভিযোগ আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছে—উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরজিকর আন্দোলনের সময় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে নতুন পরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ইমেইল-ভিত্তিক প্রশ্নপত্র পাঠানো, পাসওয়ার্ড সুরক্ষা, সিসিটিভি নজরদারি, অনলাইন খাতা মূল্যায়ন, বায়োমেট্রিক লক—সহ একাধিক নিয়ম চালু হয়। এর ফলে সেকেন্ড প্রফেশনে ২৫% ছাত্র সাপ্লিমেন্টারি পেয়েছেন, যা আগে ৫% এর বেশি ছিল না।

তবুও প্রশ্ন—এত নিরাপত্তার মাঝেও প্রশ্নপত্র ফাঁস হলো কীভাবে? বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে সন্দেহ পরীক্ষার ঠিক এক ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ সকাল ১০টায়, প্রশ্নপত্র ডাউনলোডের সুযোগ মেলে। ওই এক ঘণ্টার ভিতর কোনওভাবে প্রশ্নের ছবি তুলে বাইরে পাঠানো হচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি হচ্ছে উত্তরপত্র এবং সেগুলিই পরীক্ষাকেন্দ্রের শৌচাগারে পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—কঠোর নিয়মের মধ্যেও ফাঁসের পথ এত সহজ কেন?


Share