Stone Syndicate

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ছাড়া এত বড় সিন্ডিকেট চলতে পারে না, নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, বাজেয়াপ্ত ৩০০ বিঘা জমি

টুলুর বিদেশযাত্রা প্রসঙ্গে বলেন, “বিদেশে বসে আছে মানে টাকা তো গিয়েছে। কেউ ভানুয়াতুয়ে বসে আসে। কেউ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) আবার চোখ দেখাতে বিদেশ যেতে চায়। আমাদের চোখেও চশমা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু আমারা এখানেই ডাক্তার দেখাই। এমন তল্লাশি কবে পুলিশ করেছে কেউ মনে করছে। এ সব ইডি, সিবিআই করত।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০৬:৫৭

বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিনের ভগ্নিপতি মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।তঁর বক্তব্য, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত ছাড়া এই ধরনের চক্র এতদিন ধরে চলতে পারে না। পরে সরকারের মদত ছাড়া এটা হতে পারে না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, এটা অনেক বড় চক্র। এই চক্র এক বা দু’বছরে তৈরি হয়নি। এমন সংঘটিত অপরাধচক্র যে সরকারের শীর্ষে বসে থাকা কারোর মদত ছাড়া কখনই চলতে পারে না। তাঁর অভিযোগ, এই চক্র ফুলেফেঁপে ওঠার নেপথ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মদত রয়েছে। তিনি মনে করেন, সরকারের শীর্ষস্থানে বসে তিনি এই চক্রকে বাড়তে দিয়েছেন। যাঁদের এই ধরণের কাজ বন্ধ করার তদারকি করার কথা ছিল তাঁদের সচেতনতার অভাব ছিল। অথবা তাঁরা ভয়ে কোনও প্রতিবাদ করতে পারেননি।

তবে এই সংঘটিত ভাবে সরকারের রাজস্ব লুট এবং অবৈধ ভাবে পাথর যে পাচার হয়ে যাচ্ছিল তা নিয়ে যে সরকারও ওয়াকিবহাল ছিল তা স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সংঘটিত ভাবে এই চক্র পরিচালনা করা হয়েছে। বছরের পর বছর সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হয়েছে। এটা এক দিনে হতে পারে না। এর মধ্যে পঞ্চায়েত, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর, খনিজ এবং পুলিশের একটি অংশ জড়িত ছিল। সর্বোচ্চ স্তর থেকে নির্দেশ যেত— ‘মিস্টার মন্ডল ইজ আওয়ার ম‍্যান’। তাই ওকে কিছু করা হতো না। আমি তো কাউকে ছাড় দিচ্ছি না। পুলিশ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের বিরুদ্ধেও ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গত মঙ্গলবার থেকে তল্লাশি চালিয়ে মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই টুলু মন্ডল পলাতক। এই সমস্ত যাবতীয় ঘটনার প্রসঙ্গে শুক্রবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মিনার মন্ডলের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা পাওয়া গিয়েছে। টুলুর টাকাই ওখানে রাখা হয়েছিল। টুলু মন্ডলের ব‍্যাঙ্কের অ‍্যাকাউন্টে ৯৩ কোটি টাকা ছিল। ওই অ‍্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেওয়া হয়েছে। টুলুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ৫৩ লক্ষ টাকা নগদ, ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম সিলভার, ২৩ গ্রাম প্লাটিনাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার ২১টি অস্থাবর সম্পত্তি যা মোট ৩০০ বিঘা, তা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটি বাড়ি এবং একটি খামারবাড়ি রয়েছে। এর পাশাপাশি, দু’টি পেট্রোল পাম্প এবং ৮৩টি ডাম্পার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। টুলু মন্ডলের সিন্ডিকেটে থাকা ২৪২টি ট্রাক, ডাম্পার, গাড়ি এবং কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই সবকটিকে নিলাম করে রাজস্ব আদায় করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পাথর মাফিয়া টুলু মন্ডল ওরফে নাজিমুদ্দিন বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে। তিনি মনে করছেন, গত ৪ মে-র নির্বাচনের ফলাফলের পরেই দেশত্যাগ করেছেন। তবে কোথায় গিয়েছেন তা নিয়ে তিনি কিছু জানাননি। তিনি আরও মনে করছেন, টুলু মন্ডল বিদেশে গিয়েছে তার মানে টাকাও পাচার হয়েছে। পুলিশকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থার সাহায্যও পুলিশ নিতে পারে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তিনি এই টুলুর বিদেশযাত্রা প্রসঙ্গে বলেন, “বিদেশে বসে আছে মানে টাকা তো গিয়েছে। কেউ ভানুয়াতুয়ে বসে আসে। কেউ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) আবার চোখ দেখাতে বিদেশ যেতে চায়। আমাদের চোখেও চশমা রয়েছে। তা সত্ত্বেও কিছু আমারা এখানেই ডাক্তার দেখাই। এমন তল্লাশি কবে পুলিশ করেছে কেউ মনে করছে। এ সব ইডি, সিবিআই করত।”


Share