2026 Assembly Election

রাজ‍্যে বাড়তে পারে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা, ইতিমধ্যেই চিহ্নিত ৩০ হাজার, ছাপ্পা রুখতে তৎপরতা শুরু কমিশনের

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

নির্বাচন কমিশন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৫:৫২

বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হয়েছে। কালীগঞ্জেও উপনির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সেই মডেলকে অনুসরণ করতে নারাজ কমিশন। নিরাপত্তা ও নজরদারিতে জোর বাড়িয়ে কমিশন আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথের ভিতরে দু’টি করে ক্যামেরা এবং বাইরে একটি ক্যামেরা থাকবে। অন্য বুথগুলিতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা বসানো হবে।

নাকা চেকিংয়ের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে এবং প্রতিটি নাকা পয়েন্টে ক্যামেরা নজরদারি থাকবে। পাশাপাশি কালীগঞ্জ মডেলের আদলে মোবাইল ভ্যান মোতায়েন করা হবে, যার মাথায় থাকবে ক্যামেরা। বুথের ভিতর-বাইরে, নাকা চেকিং থেকে মোবাইল ভ্যান সব ক্ষেত্রেই ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত লাইভ ওয়েবকাস্টিং চলবে।

জানা গিয়েছে, নির্বাচনী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এখনও এক মাসের বেশি সময় বাকি থাকলেও কমিশন ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করে ফেলেছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরে একাধিক বৈঠকে স্পর্শকাতর, অতি স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল ও প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুথ নিরাপত্তা ও এলাকায় টহলদারিতে থাকবে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। ২০২১ ও ২০২৪ সালের ভোটের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না কমিশন।

অন্যদিকে, ইভিএম ও ভিভিপ্যাটের প্রস্তুতির পাশাপাশি গণনা কেন্দ্র নিয়েও এগোচ্ছে সিইও দফতর। এখনও পর্যন্ত ১৫০টি গণনা কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সেই তালিকা কমিশনে পাঠানো হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে। কোন কেন্দ্রে কত রাউন্ডে গণনা হবে, তার প্রাথমিক তালিকাও তৈরি হয়েছে বলে খবর।

কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানান, কম দফায় সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করানোই তাদের লক্ষ্য, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, এবারের নির্বাচন একটু অন্যরকম। ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় কোনও আপস চলবে না।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মার্চের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত।


Share