E-Court

ই-কোর্টের পথে কলকাতা হাই কোর্ট, তবে লাইভ স্ট্রিমিং ঘিরে দ্বিধা, স্বচ্ছতার স্বার্থে ইউটিউবেই শুনানি

২০২৭ এর লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কলকাতা হাই কোর্টের ই-কোর্ট পরিকল্পনা। লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে অনীহা থাকলেও স্বচ্ছতার স্বার্থে আইপ্যাক-ইডি মামলায় শুনানি ইউটিউবে সম্প্রচার করল আদালত।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:৫২

সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের মধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টকে পূর্ণাঙ্গ ‘ই–কোর্ট’ হিসেবে ঘোষণা করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন কর্মী ও বিচার বিভাগীয় অফিসাররা। তবে 'ই-কোর্ট' ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুনানির লাইভ স্ট্রিমিং নিয়ে এখনও বিচারপতিদের একাংশের অনীহা রয়ে গিয়েছে। যদিও নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতার স্বার্থে বুধবার সেই লাইভ সম্প্রচারকেই হাতিয়ার করলেন হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষ।

আইপ্যাক সংস্থায় ইডি-র তল্লাশি ঘিরে কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্যের শাসকদলের সংঘাতের আবহে গত শুক্রবার হাই কোর্টে শুনানি ভেস্তে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এজলাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তুলে ইডি সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই হাই কোর্ট কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ওই মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ছাড়া অন্য কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। সাধারণ মানুষের জন্য শুনানি দেখার ও শোনার ব্যবস্থা করা হয় ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচারের মাধ্যমে।

সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুধুমাত্র ওই নির্দিষ্ট মামলার শুনানিই ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। অথচ গত প্রায় তিন বছর ধরেই হাই কোর্টে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চের পাশাপাশি বিচারপতি অমৃতা সিনহা, বিচারপতি কৃষ্ণা রাও, বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত এবং সদ্য যোগ দেওয়া বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রর এজলাসে নিয়মিত লাইভ সম্প্রচার চলছে। কিছু দিন আগেও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসের শুনানি লাইভ হতো। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিও দিনভর সম্প্রচারিত হয়েছে।

বর্তমানে কলকাতা হাই কোর্টে মোট ৪৪ জন বিচারপতি রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ২৬টি এজলাস বসে। কিন্তু বাস্তবে তার মধ্যে মাত্র পাঁচ-ছ'টি এজলাসের শুনানি লাইভ সম্প্রচার হয়। আইনজীবীদের মতে, যেসব এজলাসে শুনানি লাইভ হয় সেখানে সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ আলাদা করে মক্কেলদের বোঝানোর চাপ অনেকটাই কমে। পাশাপাশি কোনও কারণে শুনানির অংশ বিশেষ মিস হলে দিনের শেষে লাইভ সম্প্রচার দেখে তা সংশোধনের সুযোগও থাকে।

সম্প্রতি শিক্ষা সংক্রান্ত এক মামলায় বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মক্কেলদের উপস্থিতিতে তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। বিরক্ত আদালত শুনানিকালে সব পক্ষের মক্কেলদের এজলাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। তবে ইউটিউবে লাইভ সম্প্রচার চলতে থাকায় সেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মক্কেলদের মধ্যে তেমন হতাশা দেখা যায়নি।

স্বচ্ছতার স্বার্থে প্রায় তিন দশক আগেই লোকসভা ও রাজ্যসভার অধিবেশনের লাইভ সম্প্রচার শুরু হয়েছিল। সেই পথ অনুসরণ করেই বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ই-কোর্ট ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আদালতেও লাইভ সম্প্রচারের পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে প্রতিটি এজলাসের শুনানি বাধ্যতামূলকভাবে সম্প্রচারিত হয়। তবে হাই কোর্টগুলিতে এই ব্যবস্থা এখনও ব্যতিক্রম হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। কলকাতা-সহ বহু হাই কোর্টে লাইভ সম্প্রচার অনেকাংশে বিচার বিভাগের অফিসারদের ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল।

বিচার বিভাগের একাংশের যুক্তি, শুনানির মধ্যে নানা রকম প্রশ্ন ওঠে। কথাবার্তা হয়। সেই সময়ে লাইভ চললে তার অংশবিশেষ কেটে নিয়ে ভাইরাল করে দেওয়ার প্রবণতায় অনেক সময়ে অস্বস্তি বাড়ে। যদিও তারই মধ্যে দিনের পর দিন হাইকোর্টের কিছু এজলাসে শুনানির কিন্তু লাইভ সম্প্রচার চলছে নিয়মিতই।


Share