Mamata Banerjee

সল্টলেকে শুরু ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা, ‘বইতীর্থ’ গড়তে ১০ কোটি বরাদ্দের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নিজের লেখা বই প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের বইমেলায় ন'টি বই প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি। পাশপাশি ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার জন্যে রাজ্য সরকার ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে বলে এ দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৮

২২ জানুয়ারি উদ্বোধন হল আন্তর্জাতিক বইমেলা। ৪৯ তম বইমেলার উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বছর বইমেলা হচ্ছে সল্টলেকে করুণাময়ীর কাছে সেন্ট্রাল পার্কে। বইমেলা নিয়ে আশাবাদী আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড।

এদিন বইমেলা উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বইমেলা কমিটি অনেক খাটাখাটি করে। নানা স্টল, এনজিও, লিটল ম্যাগাজিন স্টল, গদ্য থেকে পদ্য সবটাই থাকে। আমাকে প্রতিবার ডাকেন। আমি যখন বিরোধী নেত্রী ছিলাম ময়দানের আগুন লাগার সময়েও আমি গিয়েছিলাম। রয়েছেন স্বপ্নময় চক্রবর্তী, তিনি প্রখ্যাত সাহিত্যিক। আমাদের এখানে পুলিশও স্টল দেয়। সবাই এখানে থাকে। এটা ৪৯ তম বইমেলা। আগামী বছর ৫০ বছর। বইমেলা আমাদের আবেগ। আমাদের সংস্কৃতি। এই বইমেলা দেশ ও বিদেশে বিখ্যাত। পৃথিবীর প্রাচীনতম বইমেলায় গত বার ২৭ লক্ষ মানুষ এসেছিলেন। ২৩ কোটি বিক্রি হয়েছিল। এবার সেটা ছাড়িয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কর নিই না। আমরা সবাইকে সাহায্য করছি। তবে এতে কৃতিত্ব নেওয়ার কিছু নেই। এটা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমি খুশি হয়েছি মহাশ্বেতাদি, প্রতুল দা, উত্তম কুমারের নামে হল হয়েছে। বইয়ের ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। বই সবার মান সম্মান। এখন অনেকে বই থেকে দূরে। আমরা যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে চলেছি। হাতে স্মার্ট ফোন, কম্পিউটার, এআই এসেছে। তাতে কি বই পড়ার ঝোঁক কমেছে।  আমার বই আমি হাতে লিখি।  আমি ছোটখাটো লিখি। খুব অপ্রতুল। আমি জ্ঞানীগুণী মানুষ নেই। আমি কম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।’

এ দিন বইমেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উঠে এল সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের প্রসঙ্গ।নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন থেকে কবি জয় গোস্বামীকে শুনানি প্রক্রিয়ায় হাজিরা দেওয়ার প্রতিবাদ জানান মমতা।

প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও নিজের লেখা বই প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। চলতি বছরের বইমেলায় ন'টি বই প্রকাশিত হবে বলে জানান তিনি। পাশপাশি ‘বইতীর্থ’ গড়ে তোলার জন্যে রাজ্য সরকার ১০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে বলে এ দিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ২৭ লক্ষ মানুষ বইমেলায় এসেছিলেন। বইটি বিক্রি হয়েছিল ২৩ কোটি টাকার। এ বার সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। ১১০০টি স্টল করা হয়েছে। ১২টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা প্রাঙ্গন খোলা থাকবে। এ বারের বইমেলায় ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, পেরু-সহ ২০টি দেশ অংশগ্রহণ করছে।

পাবলিশার্স ও বুক সেলার্স গিল্ডের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি ‘বইতীর্থ’ নির্মাণের আবেদন করা হয়। ২০২৭ সালে কলকাতা বইমেলা ৫০ বছরে পদার্পণ করবে। তার আগে এই ‘বইতীর্থ’ নির্মাণ করা হবে। এ দিন মঞ্চ থেকেই মমতা জানান, বিষয়টি নিয়ে একটি অফিসিয়াল চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছে গিল্ডকে। সরকারের তরফে এই ‘বইতীর্থ’ নির্মাণের জন্য মোট ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।

গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় এবং সভাপতি সুধাংশুশেখর দে জানিয়েছেন, এবছর কলকাতা বইমেলার ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো।


Share