Bar Council Election

টানা বিক্ষোভের জের, ভোটার তালিকাভুক্তির সময়সীমা বাড়াল রাজ‍্য বার কাউন্সিল

বিক্ষোভের মুখে বার কাউন্সিলের ভোটার তালিকায় নাম তোলার সময় বাড়ল ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে ২০১০ পরবর্তী আইনজীবীদের শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করায় বিতর্ক তুঙ্গে। ভোটের দিন পিছোতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে কাউন্সিল, অস্বস্তিতে শাসক শিবিরের লিগ্যাল সেল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৫৭

সাধারণ আইনজীবীদের টানা বিক্ষোভের মুখে ভোটার তালিকাভুক্তির সময়সীমা বাড়াতে বাধ্য হলো রাজ্য বার কাউন্সিল। শনিবার বিকেলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত নাম তোলা ও বানান-সমেত সব ধরনের ত্রুটি সংশোধনের সুযোগ পাবেন আইনজীবীরা। এই সিদ্ধান্তের কথা বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটেও জানানো হয়েছে।

তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট নিয়ে শর্ত জারি করেছে কাউন্সিল। জানানো হয়েছে, ২০১০ সালের আগে যাঁরা এলএলবি পাশ করেছেন, শুধু তাঁরাই ওই সার্টিফিকেট ছাড়াই ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন। এই বিধি ঘিরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তরুণ আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে।

ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সময় বাড়ানোর ফলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে নির্বাচন শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছে বার কাউন্সিল। ফলে আগামী ৬ জানুয়ারি শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানিতে নির্বাচনের দিন পিছোনোর আবেদন জানানো হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল লিগাল সেলের প্রাক্তন আহ্বায়ক তরুণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ২০১০ সালের পর আইন পাশ করা বহু তরুণ আইনজীবী এই নিয়মে ভোট থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শাসকদলের সমর্থক আইনজীবীদের বড় অংশও কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২৫ সদস্যের রাজ্য বার কাউন্সিলের ১৫টি আসন বর্তমানে তৃণমূলপন্থীদের দখলে থাকলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে সেই অস্বস্তি বেড়েছে। গত মাসে হাই কোর্ট ক্লাবের ভোটে তৃণমূলের বিভাজনের সুযোগ নিয়ে বিজেপিপন্থীরা বেশি আসন দখল করায় চাপ আরও বেড়েছে শাসকদলের নেতৃত্বে।

এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক ও রাজ্য লিগাল সেলের চেয়ারপার্সন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়ে বৈঠক করেন। মলয়–চন্দ্রিমা দ্বন্দ্ব নিয়ে আগে থেকেই আইনি মহলে আলোচনা চলছিল। লিগাল সেলের নেতৃত্ব বদল, সাসপেনশন ও গোষ্ঠীকোন্দলের আবহে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা।

বৈঠকে উপস্থিত এক তৃণমূল নেতা জানান, বার কাউন্সিলের ভোটে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে বোর্ড ধরে রাখার বিষয়ে সব পক্ষই একমত হয়েছে। তাঁর দাবি, আলোচনার মাধ্যমে আপাতত জটিলতা কেটেছে।


Share