Child theft

ফুলবাগান থেকে ছ’মাসের শিশু চুরি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার, গ্রেফতার অভিযুক্ত শ্যামলী মণ্ডল

ফুলবাগানের বিসি রায় হাসপাতাল থেকে ছ’মাসের শিশু চুরির ঘণ্টাখানেকের মধ্যে উদ্ধার। সিসিটিভি সূত্রে ভাঙড়ের নিবুন্ধিয়া গ্রাম থেকে ধৃত শ্যামলী মণ্ডল গ্রেফতার। শিশুপাচার যোগে তদন্ত চলছে।

বিসি রায় হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৮ নভেম্বর ২০২৫ ০১:৪৬

সোমবার সকালে ফুলবাগানের বিসি রায় শিশু হাসপাতাল চত্বর থেকে ছ’মাসের এক শিশুকে চুরির অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে কোলে নিয়ে হাসপাতাল এলাকা ছাড়ছেন এক মহিলা। তবে পুলিশের তৎপরতায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হয় ওই শিশু। ধৃত মহিলার নাম সাবিনা বিবি ওরফে শ্যামলী মণ্ডল। তাকে ভাঙড়ের নিবুন্ধিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ, মঙ্গলবার ধৃতকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হবে।

জানা গিয়েছে, ভাঙড়ের ছেলেগোয়ালিয়া গ্রামের মনিরুল মোল্লা ও মঞ্জিলা বিবির ছয় মাসের ছেলে মাহির কিছুদিন ধরে জ্বর–সর্দিতে ভুগছিল। চিকিৎসার জন্য সোমবার সকালে মঞ্জিলা শিশুকে নিয়ে ভাঙড় থেকে সল্টলেকমুখী বাসে ওঠেন। সেই বাসেই পরিচয় শ্যামলীর সঙ্গে। করুণাময়ী–ফুলবাগান রুটের অটোতে একসঙ্গে ওঠার পর শ্যামলী নিজেকে বিসি রায় হাসপাতালের নার্স বলে পরিচয় দেন। শিশুটিকেও কোলে নেন এবং আউটডোরের টিকিট কাটা থেকে চিকিৎসক দেখানো—সব ব্যবস্থাই করে দেন।

চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিলে বেলা এগারোটার সময় মঞ্জিলা ওষুধ কিনতে বের হন। শ্যামলী শিশুকে দেখে রাখার প্রস্তাব দেন। কিন্তু পাঁচ মিনিট পর মঞ্জিলা ফিরে এসে দেখেন—শিশু ও সেই মহিলা দু’জনেই গায়েব।

মঞ্জিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ফুলবাগান থানার পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। হাসপাতাল ও আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে শ্যামলী শিয়ালদহ স্টেশনের দিকে গিয়েছেন। ফুটেজ বিভিন্ন থানায় পাঠানো হয়।

বাসের রুট অনুযায়ী উত্তর কাশীপুর থানাও তদন্তে নামে। থানার গুন্ডাদমন শাখার অফিসার অরিন্দম সরকার সিসিটিভির ছবি আশপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে দেন। দুপুরে নিবুন্ধিয়া গ্রামের এক মুদিখানার দোকানদার ছবি দেখে থানায় খবর দেন—শ্যামলী ওই গ্রামেরই বাসিন্দা, এবং বিকেলে তাকে এক শিশুকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফিরতে দেখা গিয়েছে। এরপরই বিকেল সাড়ে চারটায় পুলিশ শ্যামলীর বাড়ি ঘিরে ফেলে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং শ্যামলীকে গ্রেফতার করে।

শ্যামলী কেন শিশুটিকে চুরি করেছিলেন—তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। শিশুপাচার চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


Share