Post Poll Violence

ভোট পরবর্তী হিংসায় মদত দিয়ে সমাজমধ্যমে উস্কানিমূলক মন্তব্য, দুই টলিউড অভিনেতার বিরুদ্ধে, থানায় অভিযোগ দায়ের

জয়দ্বীপ সেন গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পেশায় আইনজীবী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গড়িয়াহাট থানায় গিয়ে ২০২১ সালের ২ মে-র সমাজমাধ্যমের স্ক্রিনশট তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

(বাঁ দিক থেকে) পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ মে ২০২৬ ১০:৪৩

২০২১ সালের নির্বাচনের পরে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের সাক্ষী থেকেছে তৎকালীন বিরোধী দল বিজেপির কর্মীরা। অভিযোগ, সেই ঘটনায় মদত দিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। এমন মন্তব্যের সমর্থন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। পালাবদল হতেই এ বার সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে থানায় অভিযোগ জানালেন এক আইনজীবী।

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা হয়েছিল ২ মে। সেই দিনই টলিউড অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন, ‘আজ বিশ্ব রগড়ানি দিবস ঘোষণা করা হোক।’ এই ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্যের সমর্থন জানিয়ে আরেক অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘হা হা হোক হোক হোক’। ঘটনাচক্রে ওই দিনই বেলেঘাটার বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুন হয়েছিলেন।

জয়দ্বীপ সেন গড়িয়াহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পেশায় আইনজীবী। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি গড়িয়াহাট থানায় গিয়ে ২০২১ সালের ২ মে-র সমাজমাধ্যমের স্ক্রিনশট তুলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি জানান, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় দু’জনেই অভিনয় জগতে সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সমাজে তাঁদের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। সমাজমাধ্যমেও প্রভাব রয়েছে। তাঁদের এমন মন্তব্যে হিংসা ছড়িয়েছে। বিজেপি কর্মীরা দিকে দিকে আক্রান্ত হয়েছেন। বাড়িতে লুটপাট হয়েছে। মহিলারা ধর্ষিতা হয়েছেন। তিনি হিংসাকে মদত দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাই বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৪৭ ধারায় এফআইআর রুজু করে তদন্ত করা হোক।

ঘটনা নিয়ে কলকাতার গোয়েন্দা প্রধানকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, “এটি খুবই ছোট ঘটনা। ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে জেনে নিন। আমি এই পদে বসে বলতে পারব না।”

পরমব্রত এবং স্বস্তিকা দু’জনেই রাজনৈতিক মতাদর্শে কমিউনিস্ট। ক্ষমতার অভিমুখ যে দিকে থাকে, কমিউনিস্টরা সেদিকেই থাকে বলে দাবি করা হয়। কমিউনিস্টরা যে তৃণমূলের ‘বি-টিম’ তা নিয়ে বারবার সরব হয়েছে বিজেপি। তেমনি ভাবেই পরমব্রত গতকাল কিছু মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, সিপিএমের আমলে কোনও টালিগঞ্জে কোনও রাজনীতি ছিল না। যত কাণ্ড তৃণমূলের সময়েই হয়েছে। তিনি এ-ও জানান, কখনও কখনও নিজের স্বার্থে বা নিজের পরিবারের স্বার্থে ‘ক্ষমতার’ সঙ্গে সমঝোতা করেই চলতে হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই কমিউনিস্ট মতাদর্শের পরমব্রত ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন।


Share