ED Raid At IPAC

সাতসকালে আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে গেল পুলিশ, সিসি ক্যামেরায় ফুটেজ সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছেন তাঁরা

শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটের প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সেখানে গিয়ে তাঁরা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ডিভিআর। প্রতীকের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের বয়ান নেওয়া হয়েছে।

মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০১:২৪

সাতসকালে আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে গেল পুলিশ। সেখান থেকে সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ এবং ডিভিআর সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। পাশাপাশি নিরাপত্তারক্ষী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ভোরে বেআইনি কয়লা পাচার মামলায় আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইডি আধিকারিকেরা প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের আইপ‍্যাকের দফতরে পৌঁছে যান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগ, পুলিশকে প্রতীকের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে যান। বেরানোর সময় কিছু ফাইল এবং ল‍্যাপটপ নিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইডি দলের নির্বাচনী কৌশল চুরি করেছে। এর পরেই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ মামলা রুজু করে। পরে শুক্রবার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অভিযোগ দায়ের করেন।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটের প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। সেখানে গিয়ে তাঁরা সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। সংগ্রহ করা হয়েছে ডিভিআর। প্রতীকের বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের বয়ান নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, বৃহস্পতিবার কত জন ইডি আধিকারিকক এসেছিলেন, কী ভাবে তদন্ত চলে, সেই বিষয়েও প্রতীকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা আইপ‍্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে আসেন। প্রাথমিক ভাবে খবর পেয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানার এক আধিকারিক সেখানে যান। অভিযোগ, তাঁকে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে ধাক্কা মারা হয়েছে। এর পরে সেখানে ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় যান। তাঁকেও বাধা দেওয়া হয়। পরে সেখানে যান কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা। মনোজ বর্মা পৌঁছোনোর কয়েক মিনিটের মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছে যান।

সেদিনের ঘটনার পরে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ একটি মামলা রুজু করে। পরে শুক্রবার মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই থানাতে আরও একটি অভিযোগ করেন। আরেকটি অভিযোগ করেন বিধাননগরের ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায়। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে হাই কোর্টের সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পাল্টা তৃণমূলও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল। কিন্তু এজলাসে হট্টগোলের কারণে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ উঠে চলে যান। আগামী ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। 


Share