Special Intensive Revision

কমিশনের নির্দেশ অমান্য করে নেওয়া হচ্ছে অন‍্য নথি! শুনানিকেন্দ্রে এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না, ডিইও-দের নির্দেশ ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের

কোথাও কোথাও ১১টি নথির বাইরে গিয়ে নথি নেওয়া হচ্ছে। তা কমিশনের নজরে এসেছে। রোল অবজার্ভার সি মুরুগান তা কমিশনের নজরে এনেছেন। মঙ্গলবারের বৈঠকে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কড়া নির্দেশ দিয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০২:৩৫

রাজ‍্যের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ চলছে। চলছে নন-ম‍্যাপিং ভোটারদের শুনানি। তার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ১১টি নথি। কোথাও কোথাও কমিশনের নিয়মকে অমান্য করা হচ্ছে। তোয়াক্কা না করেই নির্দিষ্ট করে দেওয়া নথির বাইরে গিয়ে নথি নেওয়া হচ্ছে। এ তা নিয়ে সতর্ক করে দিলেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।

সোমবার নির্বাচন কমিশনের পাঠানো রোল অবজার্ভার সি মুরুগানের একটি বিষয় নজরে আসে। তিনি জানতে পারেন, অনেক জায়গায় এসআইআর-এর জন্য নির্দিষ্ট করা ১১টি নথি বাইরে অন্য নথি কেউ কেউ জমা করেছেন। কারা এই নথি জমা করেছেন এবং কারাই বা এমন নথি জমা নিয়েছেন, তাদের একটি তালিকা মাইক্রো অবজার্ভারদের তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি রাজ্যের সিইও দফতর এবং বিশেষ তালিকা পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকেও জানিয়েছিলেন। কমিশন সূত্রের খবর, মঙ্গলবারের বৈঠকে এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এবং কলকাতায় রোল অবজার্ভারের দায়িত্বে রয়েছেন সি মুরুগান। তবে এই ঘটনা কোন কোন শুনানিকেন্দ্রে হয়ে তা স্পষ্ট নয়। কোথাও কোথাও নির্দিষ্ট করা ১১টি নথির বাইরে অন্য নথি জমা দেওয়া হচ্ছে। কমিশন মনে করছে, এতে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অমান্য করা হয়েছে। এমন ঘটনা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। যদি পাশাপাশি তিনি এ-ও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অসঙ্গতি রয়েছে এমন ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৮ লক্ষ। ছোটখাটো ভুল বুথ স্তরের আধিকারিকেরা দায়িত্ব নিয়ে তা ঠিক করবেন। ফলত এই সংখ্যাটা কমবে। তবে তারপর যে সংখ্যাটি থাকবে তাদের শুনানি ডাকা হবে। তার জন্য মঙ্গলবারই ‘বিএলও অ্যাপে’ নতুন অপশন চালু হয়ে গিয়েছে।

এদিকে, ‘ভেরিফিকেশন লগ-ইন’ শুধু জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের হাতে রয়েছে। এই বিষয়টিও কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, শুধু তাঁদের একার পক্ষে এত নথি ডাউনলোড করে তার পরে তা যাচাই করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। বৈঠকে জ্ঞানেশ ভারতী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। 

উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে মগরাহাটে কমিশনের পর্যবেক্ষকের গাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তিনি এসআইআর-এর শুনানির কাজ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। সেই সময় দক্ষিণ ২৪ পরগনার নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষক সি মুরুগানের গাড়ি লক্ষ্য করে হামলার হয়। আঙুল ওঠে তৃণমূল কর্মীদের দিকে। পর্যবেক্ষকের গাড়ির লক ভেঙে যায়। পরিস্থিতি সামল দিতে হিমশিম খায় পুলিশ।ওই দিন সি মুরুগান বলেছিলেন, “আমি আইএএস অফিসার। আমায় নির্বাচন কমিশন পাঠিয়েছে। আমি আমার কাজ করেই যাবো।” ঘটনার পরে রাজ‍্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। পাশাপাশি জেলাশাসক, পুলিশের নোডাল অফিসার এবং ইআরও-র কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়। 


Share