Special Intensive Rivision

ভোটার তালিকা সংশোধনে পুরনো ভোটারদেরও মিলবে সুযোগ, জানাল কমিশন

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকা অনেকের নাম ঠিকানা পরিবর্তন বা দীর্ঘদিন ভোট না-দেওয়ায় বাদ পড়েছে। তবে কমিশন নির্দেশ, ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফর্ম-৬ পূরণ করে নতুন করে নাম তোলা যাবে। ২০২৬ সালের ভোটে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী প্রশাসন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১২:২৪

২০০২ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীকালে ঠিকানা বদল করেছেন। নতুন ঠিকানায় ভোটার কার্ড থাকলেও দীর্ঘদিন ভোট না-দেওয়ায় তাঁদের নাম হয়তো ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার কেউ কেউ ২০০২-এর তালিকায় না-থাকলেও তাঁদের বাবা-মায়ের নাম ছিল সেখানে। কিন্তু কর্মসূত্রে বা বাড়ি বদলের কারণে নতুন এলাকায় গিয়ে বছরের পর বছর ভোট না-দেওয়ায় তাঁদের নামও বাদ পড়েছে। ফলে অনেকেই ভাবছেন, তাঁদের ঠিকানায় এবার এনিউমারেশন ফর্ম আসবে কি না, বা আদৌ তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারবেন কি না।

বর্তমানে রাজ্যে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন। এই প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসাররা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্তমান ভোটার তালিকায় থাকা নাগরিকদের কাছে এনিউমারেশন ফর্ম পৌঁছে দিচ্ছেন। পাশাপাশি অনলাইনেও এই ফর্ম পূরণের সুযোগ রয়েছে। তবে এই ফর্ম শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় থাকা প্রায় সাত কোটি ৬৬ লক্ষ ভোটারের জন্যই তৈরি হয়েছে। ফলে যাঁদের নাম ভোটার লিস্ট থেকে আগেই বাদ পড়েছে, তাঁরা এই প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছেন বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে এসআইআর-এর খসড়া ভোটার তালিকা। এরপর থেকেই নতুন করে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করা যাবে। আগ্রহীরা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে ফর্ম-৬ পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। আবার জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকেও ফর্ম-৬ সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে।

শুধু পুরনো ভোটার নন, আগামী বছরের ১ জানুয়ারি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। আবেদন করার সময় ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ কমিশনের নির্ধারিত ১১টি নথির যেকোনও একটি জমা দিতে হবে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আবেদনকারী বা তাঁর বাবা-মায়ের নাম থাকলে সেটিও প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর প্রতিটি আবেদন ইআরও শুনানির মাধ্যমে যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। ভোটার তালিকায় নামের বানান, ঠিকানা বা অন্য কোনও তথ্য সংশোধনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফর্ম-৮ পূরণ করে তা জমা দিতে পারবেন।

যদিও ফর্ম-৬ বর্তমানে বিএলও-দের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। কমিশনের ব্যাখ্যা, আপাতত বিএলও-রা এসআইআর-এর কাজেই ব্যস্ত থাকায় তাঁদের মাধ্যমে ফর্ম-৬ জমা নেওয়া সম্ভব নয়। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিকে, অনেক ভোটার এনিউমারেশন ফর্ম পূরণের সময় ২০০২ সালের লিঙ্কেজ তথ্য দিতে গিয়ে দেখছেন, নাম বা পদবিতে ভুল, এমনকি সম্পর্কের ঘরেও ভুল তথ্য রয়েছে। 

অর্থাৎ, পুরনো ভোটারদের জন্য এখনও সুযোগ রয়েছে—যথাসময়ে সঠিক ফর্ম পূরণ ও প্রমাণপত্র জমা দিলে আসন্ন ২০২৬ সালের ভোটে তাঁরাও আবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।


Share    

SIR