IPAC Case

আইপ‍্যাক-কান্ডের শুনানিতে দু’পক্ষের আইনজীবী ছাড়া বাকিদের প্রবেশ নিষেধ, এজলাসে হট্টগোলের পরে নির্দেশ হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির

হাই কোর্টে মামলা রুজু করে তৃণমূল কংগ্রেস। ইডিও পাল্টা মামলা করে। কিন্তু শুনানির দিন এজলাসে ব‍্যাপক ভিড় জমে যায়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে ঢুকে অবাঞ্ছিত ভিড় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৫ নম্বর কোর্টের কোর্ট অফিসার এজলাস খালি করতে বলেন। তার পরেও কথা না শুনলে বিচারপতি ঘোষ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে এজলাস খালি করার নির্দেশ দেন।

শুনানির আগে একগুচ্ছ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫১

আগামীকাল কলকাতা হাই কোর্টে আইপ‍্যাক-কাণ্ডের শুনানি রয়েছে। সেই মামলার শুনানির সময় বিচারপতির এজলাসে দু’পক্ষের আইনজীবীরা ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবেন না। মঙ্গলবার শুনানি আগের দিন বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। আইনজীবী ছাড়া বাকি অন‍্য কেউ যদি মামলার শুনানি শুনতে আগ্রহী হন, তাহলে তাঁরা লাইভ স্ট্রিম দেখতে পাবেন বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৯ জানুয়ারি আইপ‍্যাক-কান্ডের শুনানির দিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তুমুল হট্টগোলের জেরে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি হয়ে যায়। বুধবার সেই মামলাটি হাই কোর্টের ৫ নম্বর কোর্টে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। শুনানির আগের দিন একগুচ্ছ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নির্দেশ, জনস্বার্থ মামলা নম্বর ৬০২ এবং ৬০৯-এর যখন শুনানি হবে, তখন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে দু’পক্ষের আইনজীবী ছাড়া আর কেউ সেখানে থাকতে পারবেন না। সিনিয়র আইনজীবী, তাঁদের সহকারীরা থাকতে পারবেন। এর পাশাপাশি মামলাকারী ও যার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, তাঁদের আইনজীবীরাই একমাত্র থাকবেন। এই দু’টি মামলার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত নন, তাঁরা শুনানির সময় এজলাসে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।

এজলাসের মধ্যে অবাঞ্ছিত ভিড় এড়াতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছেন, দু’পক্ষের আইনজীবী এবং সিনিয়র আইনজীবী বাদ দিয়ে বাকি যাঁরা শুনানি শুনতে চান, তাঁরা এজলাসের লাইভ স্ট্রিমিং দেখতে পারবেন।

গত ৮ জানুয়ারি কয়লা পাচারে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার অফিসে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই তল্লাশি অভিযানের সময়ে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়েন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতীকের বাড়ি থেকে একটি ফাইল এবং ল‍্যপটপও তাঁর সঙ্গে ছিল।

এর পরেই শেক্সপিয়র সরণি থানায় দুটি মামলা রুজু হয়। একটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে অন‍্যটি মুখ‍্যমন্ত্রী নিজে করেছেন। মমতা অভিযোগ করেন, ইডির আধিকারিকেরা দলের নির্বাচন সংক্রান্ত রণকৌশল চুরি করে নিয়েছে। দলের তথ‍্য হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাল্টা অভিযোগ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মুখ‍্যমন্ত্রীর পাল্টা বিবৃতি দিয়েছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থা জানিয়েছিল, আইন মেনেই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল। তা শান্তিপূর্ণ ছিল। কিন্তু আচমকা ঘটনাস্থলে কলকাতার কমিশনার মনোজ বর্মা, ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়-সহ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বিনা অনুমতিতে মুখ্যমন্ত্রী ঢুকে পড়েন। অপরাধ সংক্রান্ত ফাইল নিয়ে চলে যান।

হাই কোর্টে মামলা রুজু করে তৃণমূল কংগ্রেস। ইডিও পাল্টা মামলা করে। কিন্তু শুনানির দিন এজলাসে ব‍্যাপক ভিড় জমে যায়। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাসে ঢুকে অবাঞ্ছিত ভিড় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ৫ নম্বর কোর্টের কোর্ট অফিসার এজলাস খালি করতে বলেন। তার পরেও কথা না শুনলে বিচারপতি ঘোষ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যে এজলাস খালি করার নির্দেশ দেন।

তার পরেই দু’পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাদানুবাদ শুরু হয়। তা হট্টগোলের আকার ধারণ করে। এমন পরিবেশে শুনানি সম্ভব নয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এসলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। আগামি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার শুনানিতে বিচারবিভাগীয় নির্দেশ জারি করে মুলতুবি করে দেন। বুধবার সেই মামলার শুনানি রয়েছে। এ বার সেই মামলা হাই কোর্টে ওঠার আগে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করলেন হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।


Share