Delivery Workers Strike

‘আমাদের রোজগার করতে হয়, তাই কাজ করতেই হবে,’ গিগের ডাকা বনধের প্রভাবই পড়ল না দেশজুড়ে, সচল রইল পরিষেবা

অতীতে শ্রম কোড বিল, কৃষক আন্দোলন এবং ট্রাক চালকদের আন্দোলনের সময় একই ধরনের প্রতিবাদী কৌশল দেখা গিয়েছিল। এ বার সেই প্রতিবাদ রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয় গিগ কর্মীদের। কিন্তু সমাজমাধ্যমে যতই প্রচার চলুক না কেন, বাস্তবতায় দেখা গেল, পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। জীবন-জীবিকা অক্ষুণ্ণ থেকেছে। ডেলিভারি ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করেছে।

প্রভাব পড়ল না বনধের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০৩

বছরের শেষ দিনে বিভিন্ন দাবিদাওয়াকে সামনে রেখে বনধ ডেকেছিল অনলাইন ডেলিভারি কর্মীদের সংগঠন। কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন বিভিন্ন ইউটিউবার থেকে সমাজমাধ‍্যমে জোরদার প্রচারও করা হয়েছিল। তা কার্যত বিফলে গিয়েছে। ৩১ ডিসেম্বর সচল থাকল পরিষেবা। এক ডেলিভারি কর্মীর কথায়, আমাদের রোজগার করতে হয়। তাই কাজ আমাদের করতেই হবে। আমরা বনধের বিরুদ্ধে।

গত কয়েক দিনে একাধিক সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও কিছু কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন পোর্টাল ‘গুজব’ ছড়ায়, ৩১ ডিসেম্বর সুইগি, জোমাটো, জিপটো এবং ব্লিংকিট সংস্থার এর লক্ষ লক্ষ গিগ কর্মী ও ডেলিভারি পার্টনারেরা ধর্মঘটে যাবেন বলে। একাধিক কমিউনিস্ট ইউটিউবার এবং কংগ্রেস-ঘনিষ্ঠ সংগঠন এই দাবি জোরালো ভাবে প্রচার করে। তাতে নববর্ষ উদ্‌যাপনের সময় জরুরি ডেলিভারি পরিষেবা ব্যাহত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। এতে আতঙ্কিত হন সাধারণ মানুষ।

কিন্তু ‘এখন কলকাতা’র বাস্তবতা যাচাইয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি উঠে এসেছে। বলা যায়, ‘বহুল প্রচারিত’ এই ধর্মঘট কার্যত ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে। সকাল থেকে ডেলিভারি পরিষেবা স্বাভাবিক ভাবেই চলে। বহু তরুণ গিগ কর্মীরা প্রতিবাদের ডাক উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো কাজ করার পথ বেছে নিয়েছিলেন। দেখা গিয়েছে, জনপ্রিয় ডেলিভারি অ্যাপগুলিতে অর্ডার দিলে তা কোনও অসুবিধা ছাড়াই গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ডেলিভারি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। পরিষেবায় কোনও বিঘ্ন হওয়ার লক্ষণই দেখা যায়নি। 

ডেলিভারি পার্টনারদের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের বক্তব্যও ছিল একেবারেই স্পষ্ট। অনেকে জানান, কাজ বন্ধ রেখে আয়ের ক্ষতি করার মতো অবস্থায় তাঁরা নেই। ওই ডেলিভারি কর্মী বলেন, “আমাদের রোজগার করতে হয়, তাই কাজ করতেই হবে।” এমন কথাই বারবার শোনা যায় বিভিন্ন ডেলিভারি কর্মীদের মুখে। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, ধর্মঘটের ডাকের সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার তেমন কোনও যোগ নেই।

ইউনিয়নগুলির মূল দাবি ছিল কেন্দ্র সরকারের কাছে। ওলা, উবের, সুইগি, জোমাটো, ব্লিংকিট, আমাজন ও ফ্লিপকার্ট, এর সঙ্গে যুক্ত গিগ কর্মীদের ‘পার্টনার’ নয়, বরং ‘কর্মচারী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তোলে। তাঁরা মনে করে, ‘পার্টনার’ শব্দটি কর্মচারীর মতো নিরাপত্তা ও সামাজিক সুবিধা দেয় না।

যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই নতুন শ্রম কোডে গিগ ও প্ল্যাটফর্ম কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই আইনগুলিতে তাঁদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক ব্যবস্থা ও সুরক্ষার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তা সত্ত্বেও কমিউনিস্ট গোষ্ঠীগুলি দাবি, সরকার গিগ কর্মীদের জন্য কিছুই করেনি।

অতীতে শ্রম কোড বিল, কৃষক আন্দোলন এবং ট্রাক চালকদের আন্দোলনের সময় একই ধরনের প্রতিবাদী কৌশল দেখা গিয়েছিল। এ বার সেই প্রতিবাদ রাজনীতির নতুন মুখ হিসেবে তুলে ধরা হয় গিগ কর্মীদের। কিন্তু সমাজমাধ্যমে যতই প্রচার চলুক না কেন, বাস্তবতায় দেখা গেল, পরিষেবা স্বাভাবিক ছিল। জীবন-জীবিকা অক্ষুণ্ণ থেকেছে। ডেলিভারি ব্যবস্থা নির্বিঘ্নে কাজ করেছে।


Share