IPAC Case

তল্লাশিতে কিছুই বাজেয়াপ্ত করেনি ইডি! হাই কোর্টকে জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা, আইপ‍্যাক-কান্ডে আদালতে জোর ধাক্কা তৃণমূলের

বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে শুনানি শুরুতেই ইডি তরফে দায়ের করা মামলাটির শুনানি স্থগিত রাখতে আর্জি জানানো হয়। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। দু'টির বিষয়বস্তু একই। তাই সেখানে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত হাই কোর্টে শুনানি স্থগিত রাখতে আবেদন জানানো হয়।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৫৮

আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের অফিসে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, ইডি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে দলের নির্বাচন সংক্রান্ত নথি নিয়ে গিয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টে তৃণমূলের সেই অভিযোগ টিকল না। বুধবার শুনানিতে ইডি হাই কোর্টকে জানিয়েছে, তাঁরা তল্লাশিতে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। আদালত তৃণমূলের মামমলা নিষ্পত্তি করে দিয়েছে। ইডির মামলা মুলতুবি করে দিয়েছে।

ইডির তল্লাশির দিন আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে নিয়ে মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঢুকে পড়েন। প্রতীকের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় কয়েকটি ফাইল এবং ল‍্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। অভিযোগ করেন, ইডির আধিকারিকেরা দলের নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় নথি নিয়ে নিয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে কে প্রার্থী হবেন, সেই ফাইল তিনি নিয়ে চলে এসেছেন। এসআইআর নিয়ে দলীয় কাজের তথ‍্য তাঁরা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এর পরেই ইডির বিরুদ্ধে নির্বাচন সংক্রান্ত নথি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টে মামলা করে তৃণমূল। তৃণমূলের অভিযোগ, গত ছ'বছর ধরে দলের ভোটকুশলী হিসেবে আইপ্যাক কাজ করছে। সেখানে দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল। তল্লাশির নামে ইডি সেখান থেকে গোপন তথ্য নিয়ে গিয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই সব নথি সংরক্ষণ করা হোক। কোনও ভাবেই সেগুলি যেন প্রকাশ করা না হয়। এ ছাড়াও, সেগুলি যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা না হয়। সেই মতো নির্দেশ দিক বলেও শাসকদলের আইনজীবী আদালতকে জানান।

বুধবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট মুখ‍্যমন্ত্রীর সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা হাই কোর্টকে জানিয়েছে, তাঁরা তল্লাশি করে আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতর থেকে কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি। তথ‍্যপ্রমাণের জন‍্য যা কিছু সংগ্রহ করা হয়েছিল, তার সবকিছুই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তাই নথি যেখানে বাজেয়াপ্তই করা হয়নি, সেখানে সংরক্ষণের প্রশ্ন আসে না। ইডি আরও প্রশ্ন তোলে, কোন স্পর্শকাতর নথি, কোন ব্যক্তিগত তথ্য বাজেয়াপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা, তা স্পষ্ট করে হলফনামায় বলা হয়নি। এই অস্পষ্টতার জন্যও মামলাটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেও আদালতকে জানায় ইডি।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, “আজকের মামলায় শুধুমাত্র গোপনীয় রাজনৈতিক নথি সংরক্ষণের আবেদনই জানানো হয়েছিল। ইডি যেহেতু জানিয়েছে, তারা কোনও নথি বাজেয়াপ্ত করেনি, ফলে এই মামলার নিষ্পত্তি করে দেওয়া হল।” এর পরেই তৃণমূলের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।


Share