Special Intensive Rivision

মাধ্যমিক পরীক্ষার মুখে নতুন উদ্বেগ, এসআইআর কাজে যুক্ত স্কুলপ্রধানদের উপর কড়া নজরদারি

এসআইআর শুনানি ঘিরে রাজ্যের স্কুলপ্রধানদের উপর বাড়ছে প্রশাসনিক চাপ। ছুটির দিনেও স্কুল খোলা, এলাকা ছাড়ায় নিষেধাজ্ঞা ও নথি ই–মেলে পাঠানোর নির্দেশে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় ঘিরে উদ্বেগে শিক্ষক মহল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:২৫

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন–এর অংশ হিসেবে শুরু হওয়া শুনানি পর্বকে ঘিরে নতুন করে চাপের মুখে পড়েছেন রাজ্যের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক–প্রধান শিক্ষিকারা। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে প্রয়োজনে ছুটির দিনেও স্কুল খোলা রাখতে হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতি ছাড়া স্কুল প্রধানেরা এলাকা ছাড়তে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে।

জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকরা অতিরিক্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানিয়েছেন, এসআইআর–এর কাজে কারও জন্ম তারিখ বা অন্যান্য নথি যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট স্কুলপ্রধানকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করতে হবে। প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হলে দু’দিনের মধ্যে রিটার্ন ই–মেলে তা পাঠাতে হবে এবং সেই নথি পাঠানোর দায়ভার ব্যক্তিগত ভাবে স্কুল প্রধানদের উপরই থাকবে। এই কাজের উপর সর্বস্তরে কড়া নজরদারি চালানো হবে বলেও জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

রাজ্যের ২৩টি শিক্ষা জেলার মধ্যে অধিকাংশ ডিআই–এর জারি করা এই নির্দেশে উদ্বিগ্ন স্কুল প্রধানেরা। অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষা দফতরকে না জানিয়েই এসআইআর–এর কাজে হাজার হাজার শিক্ষককে যুক্ত করার ফলে মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়ে সমস্যা হতে পারে, এমন আশঙ্কা আগেই শিক্ষা দফতর ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রকাশ করেছিল। সেই পরিস্থিতিতে ছুটির দিনে স্কুলে উপস্থিত থাকা এবং এলাকা না ছাড়ার নির্দেশ কি শিক্ষা দফতরের অনুমতি নিয়েই দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে শনিবার স্কুলশিক্ষা সচিব ও কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর–এর শুনানি চলবে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। অথচ ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ে যদি পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুলগুলিকে এসআইআর–এর কাজেও লাগানো হয়, তা হলে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বহু স্কুল প্রধানের বক্তব্য, জন্ম তারিখ বা অন্যান্য শংসাপত্র যাচাই করতে হলে ভর্তির রেজিস্টার, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট বা বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত নথির ভিত্তিতেই যাচাই করতে হবে। সেই যাচাই করা নথিতে সই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই–মেলে পাঠানো অত্যন্ত শ্রমসাধ্য কাজ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানদের আরও অভিযোগ, বহু স্কুলেই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ নেই। সে ক্ষেত্রে ই–মেলের মাধ্যমে নথি পাঠানো বাস্তবে কী ভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠছে।


Share