Kolkata Municipal Corporation

নবরূপে সিরিটি মহাশ্মশান, বসানো হল চারটি আধুনিক চুল্লি, পরিদর্শনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম

নবরূপে সেজে উঠছে সিরিটি মহাশ্মশান। প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাশ্মশানের পরিকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বুধবার কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন পুরসভার আধিকারীকরা।

সিরিটি শ্মশানের কাজ পরিদর্শনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৪১


নতুন সাজে গড়ে উঠছে সিরিটি মহাশ্মশান। কলকাতা পুরসভা প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে এই মহাশ্মশানের পরিকাঠামো সংস্কার ও আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ, মেয়র পারিষদ তারক সিংহ, সন্দীপ বক্সী এবং ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংহ—সহ পুরসভার আধিকারিকরা কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে গড়ে তোলা মহাশ্মশানে থাকছে চারটি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক চুল্লি। পাশাপাশি রাখা হয়েছে পরিবেশবান্ধব কাঠের চুল্লি, যাতে ইচ্ছুক পরিবারেরা প্রথাগত পদ্ধতিতেই দাহক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। শ্মশানবন্ধু ও আত্মীয়দের জন্য তৈরি হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রতীক্ষালয়, যাতে অপেক্ষার সময় মিলবে সম্মানজনক ও আরামদায়ক পরিবেশ।

শান্ত ও ধর্মীয় আবহ দিতে শ্মশানচত্বরে নির্মিত হয়েছে একটি মন্দির এবং তার সংলগ্ন গঙ্গাজলের পুকুর, যেখানে অস্থি বিসর্জনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কাছেই তৈরি হচ্ছে একটি ছোট পার্ক, যাতে মৃতের পরিজনেরা কিছুক্ষণ নিরিবিলিতে বসে থাকতে পারেন।

সিরিটি মহাশ্মশানের আধুনিকীকরণের ভাবনা শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই বছর চলচ্চিত্র পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের শেষযাত্রায় শ্মশানের বেহাল দশা দেখে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবিলম্বে সংস্কারের নির্দেশ দেন। এরপর রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় শ্মশানের পাশের প্রায় ১৪ কাঠা জমি দু’কোটি টাকায় অধিগ্রহণ করে শুরু হয় প্রকল্পের বাস্তবায়ন।

বুধবারের পরিদর্শনে মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান, কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং সামগ্রিক অগ্রগতিতে তিনি আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন রূপে মহাশ্মশান উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত হবে। তিনি আরোও জানান, শ্মশান মানেই অস্বস্তিকর পরিবেশ— এই ধারণা বদলানোই লক্ষ্য। মানুষের শেষযাত্রা যাতে মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই জোর দিচ্ছে পুরসভা।

সব মিলিয়ে উদ্যোগ, ব্যয় ও পরিকল্পনায় সিরিটি মহাশ্মশান হয়ে উঠছে কলকাতার অন্যতম আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক পরিকাঠামো— যা আগামী দিনে শহরের শেষযাত্রা ব্যবস্থাকে নতুন দিক দেখাতে চলেছে।


Share