State Election Commission

পুরভোটের দামামা বাজতে চলেছে! কলকাতা-হাওড়ায় ডিসেম্বরেই ভোটের প্রস্তুতি কমিশনের, ইভিএমে এ বার থাকছে না ‘নোটা’?

আগামী ৩ নভেম্বর থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এ বারের পুরভোটে ইভিএমে নাও থাকতে পারে ‘নোটা’ বিকল্প। পাশাপাশি ভোট পরিচালনায় রাজ্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখতে চাইছে কমিশন।

রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:২০

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোটের প্রস্তুতিতে গতি আনছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিনক্ষণ এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা হয়নি। তবে কমিশন সূত্রের খবর, আগামী ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দুই পুরসভার নির্বাচন করানোর সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই এগোচ্ছে প্রশাসনিক প্রস্তুতি। কলকাতা পুরসভা এলাকায় ৪ হাজার ৭১১টি বুথে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দায়িত্ব সামলাতে প্রাথমিক ভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে ২২ হাজার ৬১৩ জন ভোটকর্মীকে। আগামী ৩ নভেম্বর থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হওয়ার কথা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, এ বারের পুরভোটে ইভিএমে নাও থাকতে পারে ‘নোটা’ বিকল্প। পাশাপাশি ভোট পরিচালনায় রাজ্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখতে চাইছে কমিশন।

কমিশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কলকাতার ৪ হজার ৭১১টি বুথে নির্বিঘ্নে ভোট করাতে প্রয়োজন হবে মোট ২২ হাজার ৬১৩ জন ভোটকর্মীর। প্রিসাইডিং অফিসার ছাড়াও প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই মতো আগামী ৩ নভেম্বর থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ পর্ব শুরু হওয়ার কথা। অর্থাৎ, নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিন ঘোষণা না হলেও বুথ বিন্যাস থেকে শুরু করে ভোটকর্মীদের প্রস্তুতি—সব ক্ষেত্রেই কাজ এগিয়ে রাখছে কমিশন।

এ বারের নির্বাচনে ইভিএমের ‘নোটা’ বিকল্প নিয়েও তৈরি হয়েছে চর্চা। কমিশন সূত্রে খবর, কলকাতা পুরভোটে ইভিএমে নোটা রাখার পরিকল্পনা নেই। অন্য দিকে, কলকাতা ও হাওড়া—দুই পুরসভার নির্বাচনই রাজ্য পুলিশের মাধ্যমে পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই সংক্রান্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি। ফলে কমিশনের চূড়ান্ত নির্দেশিকা সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়গুলি সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

তবে ভোটের প্রস্তুতি এতদূর এগিয়ে যাওয়ার পরেও দিনক্ষণ ঘোষণায় দেরি কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কমিশন সূত্রের খবর, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহকে সম্ভাব্য ভোটের সময় হিসেবে মাথায় রাখা হলেও রাজ্য সরকারের সবুজ সঙ্কেত এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে একদিকে বুথ ও ভোটকর্মী সংক্রান্ত প্রস্তুতি চলছে, অন্য দিকে ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়ে কাটছে না অনিশ্চয়তা।

সব মিলিয়ে কলকাতা ও হাওড়ার পুরভোট ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোটের সম্ভাবনা কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই নজর। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ কবে ঘোষণা করা হবে, তার উত্তর আপাতত কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষাতেই।


Share