High Court

‘নার্সিং কলেজ না কি রমরমা রোজগারের ব্যবসা!’ রাজ্য জুড়ে বড় অনুসন্ধানের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

রাজ্যে বেসরকারি নার্সিং কলেজের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ছ’মাসের অনুসন্ধানের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের। বেআইনি কাজ ধরা পড়লে এফআইআর ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৩:২৪

রাজ্য জুড়ে গত কয়েক বছরে গজিয়ে ওঠা নার্সিং কলেজগুলির কার্যকলাপ নিয়ে বড়সড় অনুসন্ধানের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর নির্দেশে রাজ্যের নার্সিং কাউন্সিলকে আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালতে অভিযোগ উঠেছে, নামমাত্র নার্সিং কলেজ খুলে মূলত টাকা রোজগারের ব্যবসা চলছে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়।

মঙ্গলবারের শুনানিতে বিচারপতি বসু জানতে চান, রাজ্যে মোট কতগুলি নার্সিং কলেজ রয়েছে, সেখানে কতজন পড়ুয়া ভর্তি আছেন এবং কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই অডিট চলাকালীন কোনও কলেজের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এফআইআর করার অনুমতিও দিয়েছে হাইকোর্ট।

আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যে কোথায় কত নার্সিং কলেজ খুলছে বা বন্ধ হচ্ছে— তার কোনও স্পষ্ট হিসেব নেই। অথচ কর্মসংস্থানের আশায় বহু পড়ুয়া মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এসব কলেজে ভর্তি হচ্ছে। ব্যবসা না চললে মালিকপক্ষ মাঝপথে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিচ্ছে, আর পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। নার্সিং কলেজগুলোর উপর কার্যত কোনও নজরদারি নেই বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন ট্রাস্টিদের হাতে চলে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের উপর সরকারের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই— যা মেনে নেওয়া যায় না।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমতলার বেদান্ত নার্সিং কলেজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ দেয় আদালত। কলেজ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পড়ুয়া হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, প্রথম শিক্ষাবর্ষের পর কর্তৃপক্ষ জানায় পর্যাপ্ত পড়ুয়া না থাকায় কলেজ চালানো সম্ভব নয়। অথচ প্রত্যেক পড়ুয়ার কাছ থেকে প্রায় তিন লক্ষ টাকা নেওয়া হয়েছিল। নার্সিং কাউন্সিলে অভিযোগ জানিয়েও কোনও ফল না পাওয়ায় তাঁরা আদালতে মামলা করেন।

এই মামলায় কলেজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ন'জন ট্রাস্টিকে ব্যক্তিগত হাজিরার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। শুনানিতে ট্রাস্টিরা জানান, পড়ুয়ার অভাবে কলেজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আদালত তখন নির্দেশ দেয়, দুই পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে প্রত্যেক ট্রাস্টিকে এক লক্ষ টাকা করে, মোট ন'লক্ষ টাকা নার্সিং কাউন্সিলে জমা দিতে হবে। ওই অর্থে পড়ুয়াদের অন্য নার্সিং কলেজে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করবে কাউন্সিল। টাকা বেঁচে গেলে তা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হবে।

মামলার এক পক্ষের আইনজীবী অরিন্দম দাস জানান, সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত নার্সিং কলেজ ছাড়া রাজ্যে প্রায় আড়াইশো বেসরকারি নার্সিং কলেজ রয়েছে। সেগুলি নিয়ে প্রায়ই নানা অভিযোগ ওঠে। তাঁর মতে, ট্রাস্টির অধীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠায় আইনি জটিলতা কম থাকলেও সমস্যা দেখা দিলে সহজেই ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

আইনজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ নজিরবিহীন। এর আগে রাজ্যের বেসরকারি নার্সিং কলেজগুলির কার্যকলাপ নিয়ে এত বড় পরিসরে বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপ দেখা যায়নি।


Share