Suvendu Adhikari

তৃণমূল জমানায় বিতর্কিত আইপিএস অফিসার সাসপেন্ড, সঙ্গে আরও চার পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রীর

সুন্দরবনের কালীপুজোর সময় অশান্তি থেকে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ঘটনা— এমন বিবিধ বিতর্কিত ঘটনায় নাম জড়ানো পুলিশকর্তা-সহ চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৭

আরও এক আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ বার কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে আরও ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করে দিয়েছেন তিনি। শনিবার বিধানসভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তৃণমূল জমানায় এই আইপিএস অফিসার-সব পাঁচ পুলিশ আধিকারিকই বিতর্কিত ঘটনায় নাম জড়িয়েছেন।

সুন্দরবনের কালীপুজোর সময় অশান্তি থেকে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের ঘটনা— এমন বিবিধ বিতর্কিত ঘটনায় নাম জড়ানো পুলিশকর্তা-সহ চার আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন।

গত বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে কালীপুজোর সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। মায়ের মূর্তি ভাঙাকে কেন্দ্র করে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অশান্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ছিল, দোষীদের না গ্রেফতার করে মায়ের মূর্তি প্রিজন ভ্যানে করে করে তুলে নিয়ে চলে যায় পুলিশ। বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন এই বিষয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপির নির্বাচনী প্রচারেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। ক্ষমতায় এসে আইপিএস অফিসার কোটেশ্বর রাওকে সাসপেন্ড করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই পুলিশ আধিকারিকদের নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০২১-২৬ সালে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের অপব্যবহার করা হয়েছে। যাঁরা সনাতন ধর্ম মানেন, তাঁদের ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে।”

গত ২০২৩ সালে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরে এলাকায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তারই মাঝে মৃত্যুঞ্জয় বর্মন নামে এক যুবক পুলিশের গুলিতে নিহত হন। ওই ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি মোয়াজ্জেম হোসেনের। তাঁকে বাহিনী থেকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কালিয়াগঞ্জের ওই ঘটনা প্রসঙ্গে এ দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “একটি মেয়েকে অত‍্যাচার করে খুন করা হয়। স্থানীয় তৃণমূল উপপ্রধানের ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। কোনও ব‍্যবস্থা না নেওয়ায় বিক্ষোভ হয়। ওই ছোট্ট কন্যার দেহ কী ভাবে বিবস্ত্র অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল! উল্টে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।” রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে মোয়াজ্জেমকে নিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরজি কর কাণ্ডের পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের নভেম্বরে বারাণসীতে মৃত্যু হয় রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন আইজি পঙ্কজ দত্তের। বারাণসীতে একটি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করার সময়ে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পঙ্কজ। সেরিব্রাল অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। এক মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালে থাকার পরে মৃত্যু হয় পঙ্কজের। ঘটনাচক্রে, তার কয়েক মাস আগে আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে একটি অনুষ্ঠানে পঙ্কজের মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। কলকাতার বড়তলা থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল। বড়তলা থানার ওই ঘটনায় দুই পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। তৎকালীন তদন্তকারী আধিকারিক সাধন পাণ্ডে এবং থানার তৎকালীন ওসি সুবর্ণ দত্তচৌধুরীকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন তিনি।

এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পঙ্কজ দত্তকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বড়তলা থানায় ডেকে হেনস্থা করা হয়েছিল।” প্রাক্তন আইজিকে দীর্ঘ ক্ষণ বিনা কারণে থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধন এবং সুবর্ণকে সাসপেন্ড করা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, গত বছরে কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দুই পুজো কমিটির মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঘটনার কয়েক জন জখম হন। পুজো কমিটির সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়। সেই শোভাযাত্রার সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে কৃষ্ণনগর থানার তৎকালীন আইসি অমলেন্দু বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


Share