Bangladesh Turmoil

‘এক কেজি পেঁয়াজ বাংলাদেশে যেতে দেবো না,’ হুঙ্কার বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীর, দীপু দাসের হত‍্যাকান্ডের প্রতিবাদে কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল

বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে প্রতীকী অবরোধের ডাক দেন। বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশে এক কেজি পেঁয়াজ যেতে দেবো না। শুভেন্দুর দাবি, “দীপুচন্দ্র দাস-সহ বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে বা খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে প্রতিবাদ করতে বার বার আসব। বসতে দেবো না।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ১০:৫৩

বাংলাদেশে ইসলামিক সংগঠনের নেতা ওসমান হাদির মৃত‍্যুর পরে সারা দেশজুড়ে নৈরাজ্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ওই দিন রাতেই ময়মনসিংহের ভালুকায় হিন্দু দীপুচন্দ্র দাসকে হত‍্যা করে ইসলামিক দুষ্কৃতীরা। নারকীয় হত‍্যীকান্ডের আঁচ এসে পড়ল কলকাতায়। সোমবার ‘হিন্দুহত‍্যা’র প্রতিবাদে নিজাম প‍্যালেস থেকে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন পর্যন্ত মিছিলে সাধুসন্ত‍ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে পা মেলালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, এক কেজি পেঁয়াজও বাংলাদেশে যেতে দেবো না যতক্ষণ না তাঁর খুনিরা শাস্তি পাচ্ছে। যদিও মিছিল আগেই আটকে আটকে দেয় পুলিশ। 

এ দিন পদ্মাপাড়ে দীপুচন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে শহরের রাজপথে নেমে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি প্রতিবাদ দেখায়। মিছিল বেশ কিছুটা এগোতেই বেকবাগানের কাছে ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয় পুলিশ। এর পরেই মিছিলে অংশগ্রহণকারী সাধুসন্তদের নিয়ে ব্যারিকেডের সামনেই রাস্তায় বসে পড়েন শুভেন্দু। পুলিশের সঙ্গেও চলে বচসা। 

বিরোধী দলনেতা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্তে প্রতীকী অবরোধের ডাক দেন। বিরোধী দলনেতার হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশে এক কেজি পেঁয়াজ যেতে দেবো না। শুভেন্দুর দাবি, “দীপুচন্দ্র দাস-সহ বাংলাদেশের হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা না নিলে বা খুনিদের উপযুক্ত শাস্তি না হলে প্রতিবাদ করতে বার বার আসব। বসতে দেবো না।” আগামী ২৬ ডিসেম্বর আরও লোক নিয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের অফিসে আসবেন বলে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, “ওরা দীপুকে হত্যা করেছে। এখানে মহম্মদ ইউনূসকে হিন্দুরা পোড়াচ্ছে।”

মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের মৃত‍্যুর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, "সমগ্র দুনিয়ার হিন্দু এক হোক। হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের সঙ্গে যা করেছিল, দীপুচন্দ্র দাসের সঙ্গেও তাই করেছে।" এর পরেই তিনি জানান, “বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর এই অত্যাচার মানা হবে না। হিন্দুরা জেগে গিয়েছে। বদলা আমরা নেবই। বদলা চাই।”  সংবাদমাধ্যমের মাধ‍্যমে দীপুর পরিবারকে বিজেপি নেতার পরামর্শ, তাঁরা হাই কোর্টে দোষীদের ফাঁসি চায়ে আর্জি করতে পরে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইসলামিক সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-র নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মৃত্যু হয়। তার পর থেকে বাংলাদেশ জুড়ে নৈরাজ্যের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দুটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের অফিস ভাঙচুর করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসকে ওই দিন রাতেই পিটিয়ে হত্যা করে। তার পরে গাছে ঝুলিয়ে মৃতদেহে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসলামিক দুষ্কৃতীরা। তাঁকে বাঁচানো তো দূরের কথা, তা দেখে ঘটনাস্থলে থাকা লোকজন উল্লাসে ফেটে পড়ে। অন‍্যদিকে, ওই দিনই নিরপত্তার কারণে বাংলাদেশে একাধিক জায়গায় আইভ‍্যাক বন্ধ করে দেয় দিল্লি।


Share