ED Raid at IPAC Office

হাই কোর্টে এজলাসে তুমুল হট্টগোল, উঠে গেলেন বিচারপতি, পিছিয়ে গেল ইডি এবং তৃণমূলের মামলার শুনানি

শুক্রবার শেক্সপিয়র সরণি এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় মুখ্যমন্ত্রীর তরফে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাতে অজ্ঞাতপরিচয় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, না-বলে জিনিস নিয়ে নেওয়া বা চুরি এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মুলতবি হল হাই কোর্টে দায়ের হওয়া মামলা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:১৫

কলকাতা হাই কোর্টের এজলাসে তুমুল হট্টগোল। বারবার শান্ত হতে বলা সত্ত্বেও শান্ত হয়নি কোনও পক্ষ। দু’পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে শুনানি সম্ভব নয় বলে এজলাস থেকে উঠে গেলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে দু’পক্ষকে।

বৃহস্পতিবার ইডি ভোট কুশলী সংস্থার আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সেক্টর ফাইভের দফতরে একযোগে তল্লাশি চালায়। সেখানে গিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কলকাতা এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং দলের কৌশলগত কাজের নথি ইডির আধিকারিকেরা হাতিয়ে নিয়েছেন।

শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ইডি এবং তৃণমূলের দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল। সেই মামলার শুনানির আগেই এজলাসে ভিড় বাড়তে শুরু করে। বিচারপতি দ্বিতীয়ার্ধে আড়াইটে নাগাদ মামলাটি শুনবেন বলে ঠিক ছিল। তার আগে অন‍্য কিছু মামলার শুনানি হয়। 

এর পরে মামলা ওঠার আগে এজলাসে এতো ভিড় দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। প্রচুর ভিড় হয়ে গিয়েছে। শুনানি কাজ হচ্ছে না। তাই ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস থেকে বেরিয়ে বলেন কোর্ট অফিসার। তাতে কাজ না হলে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ এজলাস খালি করার জন‍্য সময় বেঁধে দেন। বলেন, “৫ মিনিটের মধ্যে এজলাস খালি করে দিতে। অত‍্যাধিক ভিড় হয়ে গিয়েছে। না হলে আমাকে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হবে।” 

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই মামলার সঙ্গে যারা যুক্ত নন, তাঁরা এসলাস থেকে বেরিয়ে যান। কিছু মনে করবেন না।” এরপরে কারা এজলাসে থাকবেন, আর কারাই বা থাকবেন না, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে গোলমাল বেধে যায়। শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি। তার পরেই উঠে চলে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। বিচারপতি এই মামলার শুনানি মুলতবি করে দিয়েছেন। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলাটি শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুক্রবার শেক্সপিয়র সরণি এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় মুখ্যমন্ত্রীর তরফে যে অভিযোগ দায়ের হয়েছে, তাতে অজ্ঞাতপরিচয় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, না-বলে জিনিস নিয়ে নেওয়া বা চুরি এবং ভয় দেখানোর মতো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। 

অন‍্যদিকে আইপ্যাক দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে ইডির অভিযান নিয়ে এর আগে বৃহস্পতিবার পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত একটি মামলা করা হয়েছিল। এ বার নতুন করে অভিযোগ দায়ের হল। অভিযোগকারী খোদ মুখ্যমন্ত্রী। ইডির তরফে এই ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করা হয়েছে। তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে যুক্ত করা হচ্ছে। তৃণমূলও পাল্টা একটি মামলা করেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে। তাতে যুক্ত করা হয়েছে আইপ্যাক এবং ইডিকে। শুক্রবার দুপুরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে একসঙ্গে জোড়া মামলার শুনানি হবে।


Share