Mid-Day-Meal

মিড-ডে মিলে কড়া নজরদারি! জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক, দেরি হলেই প্রশ্ন, ইসকনের জন্য নতুন এসওপি জারি

তবে অভিযোগ ওঠে, এখনও সব স্কুলে নিয়মিত খাবার পৌঁছোচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাজ্যের ‘পিএম পোষণ’ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পে ইসকনের মাধ্যমে খাবার বিতরণের জন্য রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর বিস্তারিত আদর্শ কার্যবিধি প্রকাশ করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৭

মিড-ডে মিলকে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। কখনও ডিম সরবরাহ, কখনও খাবারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এরই মধ্যে গত ১ অগস্ট থেকে ইসকন কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব নেয়। তবে অভিযোগ ওঠে, এখনও সব স্কুলে নিয়মিত খাবার পৌঁছোচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার রাজ্যের ‘পিএম পোষণ’ (মিড-ডে মিল) প্রকল্পে ইসকনের মাধ্যমে খাবার বিতরণের জন্য রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর বিস্তারিত আদর্শ কার্যবিধি প্রকাশ করেছে।

নতুন কার্যবিধি অনুযায়ী, সকালের স্কুলগুলিতে সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে এবং দিনের স্কুলগুলিতে দুপুর দেড়টার মধ্যে মিড-ডে মিলের খাবার পৌঁছে দিতে হবে। এই দায়িত্বে থাকবে ইসকনের খাবার সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ফাউন্ডেশন। খাবারবাহী ট্রাকগুলিকে নির্দিষ্ট রুট মেনেই চলাচল করতে হবে, যাতে চালকেরা সেই পথ সম্পর্কে অভ্যস্ত থাকেন। পাশাপাশি প্রতিটি ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। খাবার পৌঁছোনোর পর নির্দিষ্ট ডেলিভারি কর্মীর কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক খাবারের হিসাব বুঝে নিয়ে চালানে স্বাক্ষর করবেন। নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, কোনও পরিস্থিতিতেই খাবার সরবরাহকারী ট্রাক স্কুল চত্বরে দাঁড় করিয়ে রাখা যাবে না।

নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও স্কুল নিজস্ব সিদ্ধান্তে মিড-ডে মিল পরিবেশনের শিফ্‌টের সময় বদল করতে পারবে না। সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসারের কাছে যথাযথ কারণ উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া, প্রতিটি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাঁধুনি বা ‘কুক-কাম-হেল্পার’ নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাঁধুনিকে আগামী ৫ অগস্টের মধ্যে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বিবরণ নোডাল অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। গত মাসের ডিবিটি-র অর্থপ্রদান ও নিয়োগপত্র যাচাইয়ের পর তাঁদের সংশ্লিষ্ট স্কুলে কাজে বহাল করা হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তথ্য জমা না দিলে বর্তমান নিয়োগ বাতিল বলে বিবেচিত হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন রাঁধুনি নিয়োগ করা হবে।

রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণামাফিক সপ্তাহে দু’দিন শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিলের মেনুতে ডিম রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও লজিস্টিক পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা দ্রুত জমা দিতে নোডাল অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, প্রথম পর্যায়ে ইসকনের মাধ্যমে ঠিক কতগুলি স্কুলে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই তথ্যও স্কুল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসারকে জনস্বার্থে লিখিত আকারে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিজেপি সরকারের বাজেট ঘোষণার ভিত্তিতে গত ১ অগস্ট থেকে কলকাতা পুর এলাকার সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। সেই উপলক্ষে শনিবার তারাতলায় ইসকনের সেন্ট্রাল কিচেনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে প্রথম দিন থেকেই এই উদ্যোগকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। সূত্রের খবর, শহরের প্রায় এক হাজার ৮০০টি স্কুলের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৫০০টি স্কুলকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৪৪ হাজার পড়ুয়ার জন্য খাবার সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পাইলট প্রকল্পের প্রথম দিনেই একাধিক স্কুলে মিড-ডে মিল না পৌঁছোনোর অভিযোগ ওঠে। সেই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ইসকনের সংশ্লিষ্ট ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্যে বিস্তারিত নির্দেশিকা (এসওপি) জারি করে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর।


Share