Birth Certificate Scam

ব‍্যাপক অনিয়ম! পুরসভা, পঞ্চায়েতের প্রধানেরা জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবে না, নবান্নের সিদ্ধান্তের পরে পুলিশের অভিযান

নবান্নের এই বার্তার পরেই জেলায় জেলায় পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। মালদহের ইংরেজ বাজার পুরসভায় পুলিশ গিয়ে সমস্ত নথি এবং রেজিস্ট্রার খতিয়ে দেখছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, বীরভূমের তিনটি পুরসভাতেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। আসানসোলের কুলটিতেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ ০৬:১৯

এ বার থেকে আর পুরপ্রধান ও পঞ্চায়েতের প্রধানেরা জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার নবান্নের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়ে দিয়েছেন। এই শংসাপত্র বিতরণ করতে পারবে সরকারি আধিকারিক। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করবে বলে জানান তিনি। 

রাজ‍্য সরকার মনে করছে, তৃণমূল জমানায় জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে ব‍্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর চলাকালীন এর প্রমাণ মিলেছে। মুখ‍্যসচিব মনোজের বক্তব্য, জন্মের শংসাপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি। নির্বাচনের পরেও অনেক অভিযোগ এসেছে। থানায় অভিযোগও দায়ের হয়েছে। বিপুল পরিমাণে জাল জন্ম শংসাপত্র ধরাও পড়েছে। তারা অনেকে সুযোগসুবিধা নিয়েছে।

মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, শংসাপত্র দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরা যদি অবৈধ কাজ করেন তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ করার জায়গা থাকবে। তিনি জানান, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিবদ্ধ হওয়া জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র যাচাই করবে রাজ্য সরকার। তার ভিত্তিতে অভিন্ন তথ‍্যভান্ডার তৈরি করা বে। সেই সমস্ত নথি পরে পোর্টালে আপলোড করা হবে। মুখ‍্যসচিব এ-ও জানান, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা হবে। অবৈধ সমস্ত শংসাপত্র বাতিল করা হবে। যাঁরা এই সব শংসাপত্র পেয়েছেন তাঁদের খোঁজখবর নেওয়া হবে।

মুখ‍্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, “কোনও অবৈধ বিদেশি নাগরিকক এ রাজ‍্যে থাকতে পারবে না।” অভিযোগ, স্কুল ও বিদ‍্যালয়ে শংসাপত্র পেতে জন্মের শংসাপত্র ব‍্যবহার করা হয়। কয়েক জনের জন‍্য নাগরিকেরা অসুবিধায় পড়েছেন। তাই সেই সমস্ত যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখা হবে। রেজিস্টার স্ক্যান করবে রাজ‍্য সরকার। এটা কেবলমাত্র সরকারি নিয়ম। এতে ভয়ের কিছু কারণ নেই। দুর্নীতি বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলেও জানান রাজ‍্যের মুখ‍্যসচিব।

নবান্নের এই বার্তার পরেই জেলায় জেলায় পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। মালদহের ইংরেজ বাজার পুরসভায় পুলিশ গিয়ে সমস্ত নথি এবং রেজিস্ট্রার খতিয়ে দেখছে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, বীরভূমের তিনটি পুরসভাতেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। আসানসোলের কুলটিতেও পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।

কলকাতার ১, ২ এবং ১০ নম্বর বোরো অফিসে পুলিশের আধিকারিকেরা উপস্থিত রয়েছেন। নিউ মার্কেট থানার পুলিশ পুরসভার সদর কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। সেখানে দুপুর থেকে তল্লাশি চলছে। রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক নথি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share