Suvendu Adhikari on IPAC

‘হাওলার মাধ‍্যমে টাকা গোয়ার নির্বাচনে খেটেছে,’ তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী

বৃহস্পতিবার আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের দফতরে ইডি তল্লাশি অভিযান চালায়। সেই সময় ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়ে আসেন কাগজপত্র নিয়ে। তার প্রতিবাদে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত মিছিল করেন।

মিছিলে হাঁটছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৯

তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক কয়লা কেলেঙ্কারির দুর্নীতির টাকা হাওলার মাধ্যমে নিয়েছে। সেই টাকা গোয়ার নির্বাচনে কাজে লেগেছে। এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার আইপ‍্যাক-কান্ডের প্রতিবাদে যাদবপুর ৮বি থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেন। পরে একটি সভা করেন। সেই সভা থেকে তৃণমূল, আইপ‍্যাক এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে আক্রমণ করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার কয়লা পাচারকান্ডে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার দফতরে তল্লাশি অভিযান চালায়। তল্লাশি চালানোর সময় লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা-সহ একাধিক আধিকারিককে নিয়ে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে একটি সবুজ ফাইল এবং ল‍্যাপটপ নিয়ে আসেন। অভিযোগ করেন, ইডি আধিকারিকেরা তৃণমূলের নির্বাচনী রণকৌশল চুরি করে নিতে এসেছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যেতে এসেছিল বলেও অভিযোগ করেন।

রাজ্যের প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী সেই কাজ কীভাবে করতে পারেন, কেন তিনি এমন কাজ করলেন, তা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর এমন কাজের প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে দেশপ্রিয় পার্ক পর্যন্ত মিছিল করেন। পরে দেশপ্রিয় পার্কের সামনে একটি সভাও করেন। সেখান থেকে তিনি আইপ‍্যাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, “আইপ‍্যাক কয়লা পাচারকান্ডের অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র, অনুপ মাঝি ওরফে লালার ২০ কোটি টাকা নিয়েছে। সেই টাকা হাওয়ালার মাধ‍্যমে গোয়ার নির্বাচনে কাজে লাগিয়েছে।” তৃণমূলের ‘বাংলা অস্মিতা’-র প্রচারকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “যারা বাংলা ও বাঙালি বলে দাবি করে, গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ‍্যসভার আসন দিয়ে দিলেন। তার পরে গোয়ার নির্বাচনে লড়তে যায়।”

রবিবারের সভা থেকে তৃণমূলের পুরোনো কর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “দলের প্রতিষ্ঠাতার সময় যাঁরা ছিলেন তাঁরা লাল চুল কানে দুল যুবা তৃণমূলের অত‍্যচারে ঘরে ঢুকে গিয়েছেন। তাই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাণভম্রা হয়েছে আইপ‍্যাক।”

২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে ভোটে দাঁড়ান। ভোটের প্রচারে গিয়ে পায়ে আঘাত পান। গোটা নির্বাচনে পায়ে ব‍্যান্ডেজ বেঁধেই নির্বাচনে প্রচার করেছিলেন। কিন্তু ১৯৫০ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তার পরে ভবানীপুর থেকে জিতেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

বিরোধী দলনেতার কথায়, “সেদিন মুখ‍্যমন্ত্রী যে ভাবে কোমড় বেঁধে গিয়েছিলেন, যে ভাষায় কথা তিনি বলেছেন, আমি ধন্যবাদ দেবো ইডিকে।” তাঁর অভিযোগ, এটা একটা ফাঁদ ছিল। যাতে ইডির আধিকারিকেরী পা দেয়নি। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন একটা ধাক্কাধাক্কি হোক। এর পরেই তিনি এসএসকেএমের উড়বার্নে ভর্তি হয়ে যেতেন। বলতেন, বাংলা আবার আক্রান্ত। ওখানে সব চোরেরা ভর্তি হয়। সেখানেই শুয়ে পড়তেন। সমবেদনা চাইতেন। ইডি সেই ফাঁদে পা দেয়নি।“

এ ছাড়াও, রবিবারের সভা থেকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জন সুরাজ পার্টির কী ফলাফল করেছে তা-ও বলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “আগে এই সংখ্যাটি চালাত প্রশান্ত কিশোর। তিনি বিহারে মুখ্যমন্ত্রী হতে গিয়েছিলেন। জমানত জব্দ হয়েছে। পার্টিটাই উঠে গিয়েছে। ফেরেববাজদের পার্টি জনগণই তুলে দিয়েছে। এখন চালায় প্রতীক জৈন। ও একটা ডাকাত, একটা দালাল।”

এই ঘটনা নিয়ে শেক্সপিয়র সরণি থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের হয়। তার মধ্যে মুখ‍্যমন্ত্রী একটি অভিযোগ করেন। অপরটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা দায়ের করে। ইলেকট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় আরেকটি অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু এজলাসে হট্টগোলের জেরে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ উঠে চলে যান। আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত সেই মামলায় শুনানিতে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। এর পরে শীর্ষ আদালতে মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছে ইডি। তার পরে রাজ‍্য সুপ্রিম কোর্টের ক‍্যাভিয়েট দাখিল করেছে।


Share