Train Coach

যাত্রী সুরক্ষায় জোর, ২০২৬–২৭ সালে চার হাজারের বেশি এলএইচবি কোচ তৈরির বড় লক্ষ্য ভারতীয় রেলের

যাত্রী নিরাপত্তা ও পরিষেবা উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের। ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে চার হাজার ৮০২টি এলএইচবি কোচ উৎপাদনের লক্ষ্য। আধুনিক কোচে বাড়বে স্বাচ্ছন্দ্য, কমবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, ধাপে ধাপে সরবে পুরনো আইসিএফ কোচ।

ট্রেনের কোচ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:০২

যাত্রী সুরক্ষা ও পরিষেবার মান আরও উন্নত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল। রেল মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ আর্থিক বছরে মোট চার হাজার ৮০২টি এলএইচবি কোচ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য যাত্রী নিরাপত্তা বৃদ্ধি, যাত্রার স্বাচ্ছন্দ্য উন্নত করা এবং সমগ্র রেল নেটওয়ার্কের অপারেশনাল দক্ষতা আরও মজবুত করা।

৬ জানুয়ারি জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জেনারেল ও নন-এসি কোচ উৎপাদনে রেকর্ড গড়েছে ভারতীয় রেল। আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব সুবিধা যুক্ত এই কোচগুলির ফলে কম ভাড়ায় বেশি যাত্রী পরিবহণ সম্ভব হচ্ছে। রেলের দাবি, এতে যাত্রা যেমন আরও আরামদায়ক হচ্ছে, তেমনই কোচের বহনক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রেল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, চলতি বছর ও আগামী আর্থিক বছরকে মাথায় রেখে ধারাবাহিক কোচ উৎপাদন কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, যাত্রিবাহী কোচকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তোলা।

রেলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে ৪,৮৩৮টি নতুন এলএইচবি জেনারেল ও নন-এসি কোচ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ছিল। পরবর্তী ২০২৬–২৭ আর্থিক বছরে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে চার হাজার ৮০২টি। এর মধ্যে দু’হাজার ৬৩৮টি হবে এলএস কোচ এবং দু’হাজার ১৬৪টি হবে এলএসসিএন কোচ।

গত ১১ বছরে ভারতীয় রেল ৪২ হাজার ৬০০টিরও বেশি এলএইচবি কোচ উৎপাদন করেছে। চলতি ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে তৈরি হয়েছে চার হাজার ২২৪টি এলএইচবি কোচ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।

রেলের মতে, এলএইচবি কোচে উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলক ভাবে কম এবং অপারেশনাল দক্ষতা বেশি। ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে উৎপাদন আরও বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে পুরনো আইসিএফ কোচের পরিবর্তে এলএইচবি কোচ যুক্ত করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে এলএইচবি কোচ উৎপাদনের মাধ্যমে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকেও আরও জোরদার করছে ভারতীয় রেল।


Share