Allegation of Molestation At Five Star Hotel

ইএমএম বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেলে মহিলাকে শ্লীলতাহানি এবং মারধর! পার্কস্ট্রিট ধর্ষণকান্ডের অভিযুক্ত নাসির খান এবং তার ভাইপোর বিরুদ্ধে অভিযোগ

২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকান্ডে নাসির খান, রুমন খান, সুমিত বাজাজকে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার চার বছর পরে ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাদের খান এবং আলিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কাদের এবং আলি এখনও জেল খাটছে। ধর্ষণকান্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসের-সহ দু’জনের জেলমুক্তি হয় ২০২০ সালে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ০৪:২১

ইএম বাইপাসের ধারে পাঁচ তারা হোটেলের মহিলাকে শ্লীলতাহানি অভিযোগ! রবিবার ভোরে ওই হোটেলের ভিতরে অবস্থিত একটি প্রিমিয়াম নাইট ক্লাবে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ, ওই গৃহবধূ, তাঁর স্বামী, ভাই এবং বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি করছিলেন। সেই সময় তাঁকে যৌন হেনস্তা করা হয়েছে। মারধরের ও মদের বোতল দিয়ে হামলা করা হয় বলেও অভিযোগ। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নাসির খান এবং তার ভাইপো জুনেদ খান। উল্লেখ্য, নাসির খান পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণকান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে জেলও খেটেছে।

মহিলার অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ হায়াতের প্লেবয় ক্লাবে ঘটনাটি ঘটেছে। ওই গৃহবধূর অভিযোগ, তিনি, তাঁর স্বামী, ভাই এবং বন্ধুদের নিয়ে নিজেদের টেবিলে বসেছিলেন। সেই সময় নাসের খান, জুনেদ খান এবং তাদের দলবল তাদের ওপর হামলা চালায়। শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। এর পরে নির্যাতিতার ভাই বাঁচানোর চেষ্টা করলে, তার ওপর কাঁচের মদের বোতল আর গ্লাস দিয়ে হামলা চালানো হয়। 

নির্যাতিতা অভিযোগপত্রে এ-ও উল্লেখ করেন, সেখান থেকে পালিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। কিন্তু নাসের খান ওই হোটেলে আরও ২০-২৫ লোক ডাকে। বাইরে থেকে দরজা আটকে মহিলাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে এই নির্যাতন চলতে থাকে বলে জানান তিনি। ১০০ ডায়াল করে পুলিশকে ডাকা হলে আধাঘণ্টা পরে পুলিশ এসে উদ্ধার করে। নাসের খান, ভাইপো জুনেদ খান-সহ বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন গৃহবধূ। 

২০১২ সালে পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণকান্ডে নাসির খান, রুমন খান, সুমিত বাজাজকে প্রথমে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার চার বছর পরে ঘটনার মূল অভিযুক্ত কাদের খান এবং আলিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। কাদের এবং আলি এখনও জেল খাটছে। ধর্ষণকান্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসের-সহ দু’জনের জেলমুক্তি হয় ২০২০ সালে। এ বার শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত নাসির দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। বাড়িতে ছিলেন। যদিও ভাইপো জুনেদের দাবি, নাসির আগে থেকেই সেখানো ছিল। নাসিরের সঙ্গে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযোগকারিণীকে ধাক্কাধাক্কি করেছে। জুনেদ বলেন, “একটি তুচ্ছ বন্ধুত্বপূর্ণ ঠেলাঠেলির ঘটনাএই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। “ বিধাননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, “আমরা সেই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ চেয়েছি। তা আমরা যাচাই করছি। এফআইআরে উল্লিখিত নাসের খান পার্ক স্ট্রিট মামলার সেই একই ব্যক্তি কি না এবং এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ঠিক কী, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।”


Share