Tele Medicine

ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, উপকৃত প্রায় ৭ কোটি মানুষ, ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নিয়ে রাজ্যের রিভিউ বৈঠক

‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ টেলিমেডিসিনে নতুন দৃষ্টান্ত বাংলায়। ৭ কোটিরও বেশি মানুষ উপকৃত। সেরা পারফরম্যান্সে বর্ধমান প্রথম। বৈঠকে ই-প্রেসক্রিপশন ও মেডিক্যাল কলেজে আসন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত।

স্বাস্থ্য ভবন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ০১:৪৬

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাজ্যে চালু হওয়া ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ প্রকল্পের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন পরিষেবায় নতুন দৃষ্টান্ত গড়ছে বাংলা। এই পরিষেবার সাহায্যে প্রত্যন্ত গ্রামেও ঘরে বসেই উন্নত চিকিৎসা মিলছে। চলতি বছরের নভেম্বরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি মানুষ এই পরিষেবার সুবিধা পেয়েছেন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত রিভিউ বৈঠকে টেলিমেডিসিন পরিষেবায় সেরা পারফরম্যান্সের জন্য তিনটি মেডিক্যাল কলেজকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। প্রথম স্থানে রয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ, দ্বিতীয় স্থানে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ এবং তৃতীয় স্থানে পূর্ব মেদিনীপুরের তাম্রলিপ্ত মেডিক্যাল কলেজ। রাজ্যজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মাধ্যমে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। আশাকর্মীরা প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী নিকটবর্তী সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। সেখান থেকে ফোনের মাধ্যমে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পান।

রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. করবী বড়াল জানান, “টেলিমেডিসিন পরিষেবায় রাজ্যে আমাদের মেডিক্যাল কলেজ দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের। এই স্বীকৃতি অন্যদেরও আরও উৎসাহিত করবে।”

এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজের সুপার ও অধ্যক্ষরা। বৈঠকে যোগ দেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা। টেলিমেডিসিন ছাড়াও রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, বিদ্যমান ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে তা মেরামত করেই আগামী দিনে আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়াই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।

বৈঠকে ই-প্রেসক্রিপশন পরিষেবাকে আরও সুসংগঠিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ, ভবিষ্যতে ই-প্রেসক্রিপশন বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন থাকলে তা হারানোর আশঙ্কা থাকে না এবং চিকিৎসকের হাতের লেখা বোঝা নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাও দূর হয়।

এছাড়াও পিপিপি মডেলে বিভিন্ন হাসপাতালে চালু থাকা সিটিস্ক্যান, এমআরআই ও ডায়ালিসিস পরিষেবা নিয়েও আলোচনা হয়। নামমাত্র খরচে এই পরীক্ষাগুলির সুবিধা মিললেও গ্রামাঞ্চলে সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে জানানো হয়। সেই কারণে এই পরিষেবা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজে আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব কলেজে আসন সংখ্যা ২০০-র কম, সেখানে গড়ে ৫০টি করে আসন বাড়ানো হবে। সূত্রের খবর, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজে আসন ১৫০ থেকে বেড়ে ২০০ করা হবে। পাশাপাশি পুরুলিয়া, রামপুরহাট, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজেও আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।


Share