ED Raid At IPAC

আইপ্যাক-কান্ডে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করল ইডি, যুক্ত করা হয়েছে মুখ‍্যমন্ত্রী, ডিজি, কলকাতার কমিশনারে নাম

কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানির দিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তুমুল হট্টগোল হয়। ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস থেকে বার বার বেরিয়ে যেতে বলা সত্ত্বেও তাঁরা এজলাসেই থেকে যায়। এর জেরে বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। মুলতুবি হয়ে যায় শুনানি।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩০

আইপ‍্যাক-কান্ডে শীর্ষ আদালতে জোড়া মামলা দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার কেন্দ্রীয় সংস্থার তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপর মামলাটি করেছে ইডির আধিকারিক বিক্রম অহলওয়াত, নিশন্ত কুমার এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দায়ের হওয়া দু’টি মামলাতেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কে যুক্ত করা হয়েছে। তাতে যুক্ত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকেও।

আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে ইডি তল্লাশি অভিযানের দিন পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়েন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ভিত্তিতে কলকাতা হাই কোর্টের মামলা করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কিন্তু শুনানির দিন এজলাসে হট্টগোলের জেরে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি হয়ে যায়। এর পরেই ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারে আশঙ্কা করে ক‍্যাভিয়েট দাখিল করে। ইডি যদি মামলা করে তা যেন একতরফা ভাবে না শোনে আদালত, দু’পক্ষের বক্তব্যই যাতে শোনা হয়, সেই কারণেই রাজ্য ক‍্যাভিয়েট দাখিল করে।

প্রসঙ্গত, কলকাতা হাই কোর্টে মামলার শুনানির দিন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তুমুল হট্টগোল হয়। ইন্টার্ন আইনজীবীদের এজলাস থেকে বার বার বেরিয়ে যেতে বলা সত্ত্বেও তাঁরা এজলাসেই থেকে যায়। এর জেরে বিরক্তি প্রকাশ করে বিচারপতি ঘোষ এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান। মুলতুবি হয়ে যায় শুনানি।

২০২০ সালে সিবিআই কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি এফআইআর করে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি ইসিআইআর করে। ওই ইসিআইআরের ভিত্তিতেই ইডি তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তকারী সংস্থা প্রায় দু’হাজার ৭৪২ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করছে। ইডির অভিযোগ, এই টাকার একটি বড় অংশ হাওয়ালার মাধ্যমে আইপ‍্যাকের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত তা ব‍্যবহৃত হয়েছে গোয়ার নির্বাচনে। সেই মামলার সূত্র ধরেই দিল্লি এবং কলকাতার মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার দফতর সেই তালিকায় রয়েছে।

ইডির দাবি, তাদের অনুমোদিত তল্লাশির সময় পুলিশের সাহায্য নিয়ে তাদের হেফাজত থেকে ‘অপরাধ সংক্রান্ত নথি’ নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তল্লাশি চলার সময় ডিজিটাল ডিভাইস (ল্যাপটপ, মোবাইল, হার্ডডিস্ক), গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোর করে পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি ইডির। ইডির মতে, এতে তাদের তদন্ত ‘বাধাপ্রাপ্ত’ হয়। ডিজিটাল ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ইডির আরও দাবি, তারা আইপ্যাকের দফতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করলেও রাজ্য পুলিশের বাধায় কাজ করা যায়নি।


Share