ED Raid Ar IPAC Office

তল্লাশি চলাকালীন বাধা, মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানিয়ে হাই কোর্টে আবেদন করল ইডি

কলকাতা হাই কোর্টের কাছে ইডির দাবি, এই ঘটনায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার অনুয়ায়ী একাধিক ‘অপরাধ’ হয়েছে। বলা হয়েছে- সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, বেআইনি ভাবে আটক, বলপ্রয়োগ, চুরি, প্রমাণ লোপাট, ভয় দেখানো, ষড়যন্ত্র। আদালতের কাছে ইডি জানিয়েছে, তারা চায় সিবিআইকে দিয়ে এফআইআর করে সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত হোক।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:২০

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টে আবেদন করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডির অভিযোগ, আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় অপরাধ সংক্রান্ত নথি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জন‍্য পুলিশের সাহায্য নিয়েছেন তিনি।

আবেদনে ইডির অভিযোগ, রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিক পদে থেকে ‘বেআইনি ভাবে’ তাঁদের কাজে হস্তক্ষেপ করেছেন। আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী, আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে আইন মেনে তল্লাশি অভিযান চলছিল। কয়লা পাচারকান্ডে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সেই অভিযান হয়। সেই তল্লাশি চলাকালীন মুখ‍্যমন্ত্রী বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।

গত ২০২০ সালে সিবিআই কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি এফআইআর করে। সেই এফআইআরের ভিত্তিতে ইডি ইসিআইআর করে। ওই ইসিআইআরের ভিত্তিতেই ইডি তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তকারী সংস্থা প্রায় দু’হাজার ৭৪২ কোটি টাকার আর্থিক লেনদেনের তদন্ত করছে। ইডির অভিযোগ, এই টাকার একটি বড় অংশ হাওয়ালার মাধ্যমে আইপ‍্যাকের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। মূলত তা ব‍্যবহৃত হয়েছে গোয়ার নির্বাচনে। সেই মামলার সূত্র ধরেই দিল্লি এবং কলকাতার মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি এবং সল্টলেক সেক্টর ফাইভের সংস্থার দফতর সেই তালিকায় রয়েছে।

ইডি আদালতে অভিযোগ করেছে, তল্লাশি চলাকালীন প্রথমে ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং পরে কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ বর্মা ঘটনাস্থলে যান। তার কিছু ক্ষণ পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে পৌঁছোন। দাবি, আইন মেনে তল্লাশি করার সময় ডিজিটাল ডিভাইস, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জোর করে পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থার মতে, তদন্ত সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ডিজিটাল ফরেন্সিকের কাজ মাঝপথেই বন্ধ হয়ে যায়। ইডির আরও দাবি, সেক্টর ফাইভে সংস্থার দফতরে রাজ‍্য পুলিশের বাধায় তল্লাশি করা যায়নি।

কলকাতা হাই কোর্টের কাছে ইডির দাবি, এই ঘটনায় ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার অনুয়ায়ী একাধিক ‘অপরাধ’ হয়েছে। বলা হয়েছে- সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, বেআইনি ভাবে আটক, বলপ্রয়োগ, চুরি, প্রমাণ লোপাট, ভয় দেখানো, ষড়যন্ত্র। আদালতের কাছে ইডি জানিয়েছে, তারা চায় সিবিআইকে দিয়ে এফআইআর করে সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত হোক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশের ভূমিকা কী ছিল তা তদন্তের আওতায় আনা হোক। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস ইডিকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ভবিষ্যতে ইডির কাজে রাজ্য পুলিশের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হোক। ইডির আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হোক বলেও দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি রয়েছে।


Share