Special Intensive Revision

আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে কড়া নির্বাচন কমিশন, বুধবারের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবেই ডিইও-দের, না হলে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলায় গত দু’দশকে উল্লেখযোগ‍্য ভাবে বহুতল আবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব বলছে, কলকাতায় মোট ভোটারের ৮-১০ শতাংশ আবাসনের বাসিন্দা। এই সব আবাসনের বাসিন্দারা ভোটের দিনে নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তাই বেশিরভাগই বুথমুখী হন না।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:১৬

বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে কড়া নির্বাচন কমিশন। আর সময় দেওয়া যাবে না। আজ, বুধবারের মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতেই হবে আটটি জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের। না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবারের বৈঠকে দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী।

কমিশন আগেই জানিয়েছিল, যে সমস্ত বহুতল আবাসনে ২৫০টি পরিবার বা ৫০০ জনের বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে ভোটকেন্দ্র করা যায় কি না তা নিয়ে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু যে রিপোর্ট যায় তাতে একেবারেই সন্তুষ্ট হয়নি কমিশন। কমিশন বলে, ঠিকঠাক সমীক্ষা করা হয়নি। সমীক্ষার অভাব রয়েছে। তাই পুনরায় জেলাশাসকদের বিজ্ঞপ্তি জারি করে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ৩১ ডিসেম্বর।

মঙ্গলবার সকালে রাজ‍্যে আসেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। দুপুর সাড়ে ৩টে থেকে দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালও। ওই বৈঠকে কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি নিয়ে মোট আটজন জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাগজপত্র নিয়ে সিইও দফতরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।

কমিশন সূত্রের খবর, জেলাশাসকদের বারবার বলা সত্ত্বেও রিপোর্ট না আসায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কেন কমিশনের কথা গ্রাহ্য করা হচ্ছে না তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। এ ব‍্যাপারে ওই জেলা থেকে কোনও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলেও বিরক্তি প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ ভারতী। কমিশনের তরফে তাঁদের নির্দেশ দেন, ৩১ ডিসেম্বর বুধবারের মধ্যেই বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র তৈরি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতেই হবে। যদি না হয় তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেবে নির্বাচন কমিশন।

কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলায় গত দু’দশকে উল্লেখযোগ‍্য ভাবে বহুতল আবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব বলছে, কলকাতায় মোট ভোটারের ৮-১০ শতাংশ আবাসনের বাসিন্দা। এই সব আবাসনের বাসিন্দারা ভোটের দিনে নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তাই বেশিরভাগই বুথমুখী হন না।

এর আগে নির্বাচন কমিশনকে বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, বেসরকারি জায়গায় কী করে ভোটকেন্দ্র করা যাবে। ভোটকেন্দ্র করতে হবে সরকারি বা আধা সরকারি জায়গায়। মুখ্যমন্ত্রীর এ-ও দাবি ছিল, এর ফলে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। যদিও নির্বাচন কমিশন বহুতল আবাসনে পৃথক ভাবে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছে।


Share