Special Intensive Revision

বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে আরও কড়া কমিশন, মঙ্গলবারে জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করবে স্বয়ং নিজেই কমিশনের ডেপুটি জ্ঞানেশ

কলকাতা উত্তর এবং দক্ষিণ, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দেশের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তিনি সকালেই কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছোবেন। দুপুরে সেই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১১:৪৭

আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে আরও কঠোর হল নির্বাচন কমিশন। এ বার, জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নিয়ে সরাসরি বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, আগামীকাল রাজ্যে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তিনিই সরাসরি তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেন।

জানা গিয়েছে, কলকাতা উত্তর এবং দক্ষিণ, উত্তর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন দেশের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। তিনি সকালেই কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছোবেন। তার পরে তিনি কোথায় যাবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু জানা না গেলেও, সাড়ে ৩টে নাগাদ দুপুরে রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ওই সমস্ত জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক বা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নথিপত্র নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এর আগে বহুতল আবাসনগুলিতে ভোটকেন্দ্র তৈরি করা নিয়ে জেলাশাসকদের সময় বেঁধে দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশন। নতুন ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে কেন দু’টি রিপোর্ট জমা পড়ল, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করে কমিশন। কমিশন জানায়, এ ক্ষেত্রে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সমীক্ষায় গাফিলতি রয়েছে। এমনটা চলতে পারে না। কমিশনের ফের  নির্দেশ দেয়, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের রিপোর্ট জমা দিতে হবেই। কমিশন তাঁদের এ-ও মনে করিয়ে দেয়, নির্দেশ অমান‍্য কড়া ব‍্যবস্থা নেওয়া হবে। বুধবার সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। তার আগেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে নির্বাচনী কমিশনের প্রতিনিধি জ্ঞানেশ ভারতী।

কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলায় গত দু’দশকে উল্লেখযোগ‍্য ভাবে বহুতল আবাসনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির হিসেব বলছে, কলকাতায় মোট ভোটারের ৮-১০ শতাংশ আবাসনের বাসিন্দা। এই সব আবাসনের বাসিন্দারা ভোটের দিনে নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন এবং আতঙ্কিত। তাই বেশিরভাগই বুথমুখী হন না।

সেই মর্মে নির্বাচন কমিশনের ভাবনা, কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় যে সমস্ত আবাসনে ৩০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, সেখানে আলাদা করে ভোটকেন্দ্র করে দেওয়ার। অথবা যে সব হাইজিং কমপ্লেক্স, বস্তি, কলোনি, সোসাইটিতে ২৫০টি পরিবার বা ৫০০ জন ভোটার রয়েছে সেখানে বুথ করা যাবে কি না, তার সমীক্ষা রিপোর্ট তৈরি করে কমিশনের কাছে জমা দিতে বলা হয়।

এর আগে নির্বাচন কমিশনকে বহুতল আবাসনে ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, বেসরকারি জায়গায় কী করে ভোটকেন্দ্র করা যাবে। ভোটকেন্দ্র করতে হবে সরকারি বা আধা সরকারি জায়গায়। মুখ্যমন্ত্রীর এ-ও দাবি ছিল, এর ফলে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। যদিও নির্বাচন কমিশন বহুতল আবাসনে পৃথক ভাবে ভোটকেন্দ্র তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করছে।


Share