Mamata Banerjee

গণতন্ত্র ‘ক্ষতবিক্ষত’, মৌলিক অধিকার হরণ, সংবিধান দিবসে সংবিধান হাতে নিয়েই কেন্দ্র-বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মমতার

সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সংবিধান হাতে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আম্বেদকরকরের সংবিধান মেনে নিয়ে চলব, বুকে নিয়ে চলব, মাথায় নিয়ে চলব।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০২৫ ১০:১২

সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ফের কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-শাসিত সরকারের আমলে দেশে গণতন্ত্র ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মূল্যবোধ হরণ করা হচ্ছে। সংবিধান হাতে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আম্বেদকরকরের সংবিধান মেনে নিয়ে চলব, বুকে নিয়ে চলব, মাথায় নিয়ে চলব।”

মমতা জানান, এক সংবাদপত্র দেখে তিনি বিস্মিত। সংসদে নাকি ‘জয় হিন্দ’ বা ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এটি জাতীয়তাবোধের আঘাত বলে দাবি করে তিনি বলেন, বাংলা কখনও ভারতের বাইরে নয়, এবং বাংলার স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরম’ ছিল সংগ্রামের স্লোগান—তা ভুলে গেলে চলবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, ধর্মনিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ণ করা এবং সমাজে বিভাজন বাড়ানোর অভিযোগে বিজেপিকে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। 

তিনি জানান, মঙ্গলবারের এক রাজনৈতিক সভায় অংশ নিতে গিয়ে ঢাক বাজানো কয়েকজন শিল্পীর আর্তি তাঁর কানে আসে। মমতার দাবি, সেই দৃশ্য চোখে না দেখলে কারও বোঝা সম্ভব নয়।

বিহারের ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। অভিযোগ করেন, নির্বাচনে বিজেপির জয় হওয়ার পর সেখানে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। 

রাষ্ট্রীয় ভোটার তালিকা সংস্কার ব্যবস্থা ইস্যুতেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন তিনি। দাবি করেন, এই ব্যবস্থার পর তাঁদের সরকারকে ৪০০-র বেশি নোটিস পাঠানো হয়েছে। কঠোর সুরে তিনি বলেন, “চার কোটি নোটিস পাঠান, তবু আমরা লড়ে নেব। এদের জন্য ধিক্কার ছাড়া আমার কিছু নেই।”

শেষে তাঁর দাবি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষতার নামমাত্র চিহ্নও নেই। তিনি মন্তব্য করেন, “২০২৯ কোনও ভাবেই আসবে না, তার আগেই পড়ে যেতে পারে সরকার।


Share