Special Intensive Revision

ভয় দেখিয়ে নির্বাচনী আধিকারিকদের চাপ দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’! পুরুলিয়ার পাড়ার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের

বুধবার সিইও দফতরের জানিয়েছে, এমন ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তা উদঘাটন করতে কোনও খামতি রাখা হবে না। জানানো হয়েছে, আইনের শাসন ও সত্য অবশ্যই বিজয়ী হবে। রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও সততার সঙ্গে, সম্পূর্ণরূপে জনস্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কমিশন।

সিইও দফতর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৫

পুরুলিয়ার পাড়া থানা এলাকায় এক ব‍্যক্তির মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। এর পরেই কিছু প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম জানায়, নির্বাচন কমিশনার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার খবর সামনে আসতেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সিইও দফতর। সিইও দফতর মনে করছে, ঘটনার নেপথ্যে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ রয়েছে। তা উদঘাটিত হওয়া অত‍্যন্ত জুরুরি।

বুধবার বিকেলে এই সংক্রান্ত একটি বিবৃতি জারি করা হয়। বলা হয়, “বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া প্রতিবেদন রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী দফতরের নজরে এসেছে। তাতে দেখা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে দু’টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

পড়া থানায় কমিশনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা পূর্ব পরিকল্পিত বলে মনে করছে কমিশন। যে অভিযোগের খবর সামনে এসেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও জানিয়েছে কমিশন। কমিশন জানিয়েছে, রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ আইন দ্বারা স্বীকৃত। কমিশন মনে করছে, সেই কাজের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ভয় দেখিয়ে চাপে রাখার ‘কুৎসিত’ প্রচেষ্টা।

রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হওয়ার পর থেকে একাধিক অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। কখনও এসআইআরের কারণে কেউ মারা গিয়েছেন আবার কখনও কাজের চাপে বিএলও আত্মহত্যা করেছেন। সবক্ষেত্রেই নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করেছে তৃণমূল। বুধবার সেই সব ঘটনাকে ‘ধারাবাহিক’ ও ‘সম্পূর্ণ মনগড়া’ বলে দাবি করে এর নেপথ্যে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেও বলেও মনে করছে রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। 

কমিশন এ-ও মনে করছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে এই সমস্ত কার্যকলাপ করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা কমিশনের আধিকারিকদের এ ভাবে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার প্রচেষ্টা। এসআইআর প্রক্রিয়াকে বিপথে চালিত করার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে পাল্টা দাবি করেছে কমিশন। এমন কৌশল নিঃসন্দেহে ব্যর্থ হতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে তাঁরা। 

বুধবার সিইও দফতরের জানিয়েছে, এমন ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে কে বা কারা রয়েছে, তা উদঘাটন করতে কোনও খামতি রাখা হবে না। জানানো হয়েছে, আইনের শাসন ও সত্য অবশ্যই বিজয়ী হবে। রাজ্যের নির্বাচন ব্যবস্থা দৃঢ়তা ও সততার সঙ্গে, সম্পূর্ণরূপে জনস্বার্থে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কমিশন।

সিইও দফতরের দাবি, কেউ অভিযোগ জানাতেই পারেন। সেটা সকলের ব্যক্তির গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সংসদীয় আইন অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা যায় না। ধারা ১৬ অনুযায়ী তা বলা হয়েছে। তার পরেও পুলিশ এফআইআর দায়ের করলে তা আইনের বিরুদ্ধে হবে। রাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা নির্দেশ না-মানার অভিযোগ তুলেছে কমিশন। তাদের বক্তব্য, এর আগে ভুয়ো ভোটার নিয়ে রাজ্যকে এফআইআর দায়ের করতে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তখন সেই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি।


Share