Calcutta High Court

প্রভাস মণ্ডল ‘এনকাউন্টার’ নিয়ে রিপোর্ট চাইল কলকাতা হাই কোর্ট, পুলিশকে বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ বিচারপতির

এই নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৪

বারুইপুরে কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের এনকাউন্টারকে কেন্দ্র করে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। গভীর রাতে পুলিশের এনকাউন্টার নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশের কাছে ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে হলফনামা তলব করেছে আদালত। এই নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ১৮ অগস্ট। তার আগেই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরবিন্দ কুমার আনন্দকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ-সহ একটি হলফনামা আদালতে জমা দিতে হবে।

কিশোরীকে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিল প্রভাস মণ্ডল। পুলিশ সূত্রের দাবি, গ্রেফতারের কয়েকদিন পর গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হলে প্রভাস এক পুলিশ আধিকারিকের হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সেই গুলিতেই মৃত্যু হয় প্রভাসের।

তবে পুলিশের এই এনকাউন্টার-তত্ত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এক আইনজীবী। মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করছেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর প্রশ্ন, গভীর রাতে কেন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? এত গুরুতর অপরাধে অভিযুক্তকে নিয়ে যাওয়ার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না কেন? পাশাপাশি, এনকাউন্টার বা ঘটনার পুনর্নির্মাণের কোনও ভিডিয়ো রেকর্ডিং করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে। মামলাকারীর দাবি, পুলিশের বর্ণিত ঘটনাক্রম বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং তা একটি মনগড়া গল্প বলেই মনে হচ্ছে।

অন্য দিকে, কলকাতা হাই কোর্টে রাজ্যের আইনজীবী পুলিশের পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে এনকাউন্টার ঘিরে ওঠা বিতর্ক খারিজ করার আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল জেরার সময় অপরাধের কথা স্বীকার করায় তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল। সেই সময় অভিযুক্ত আচমকা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ, আর তাতেই তার মৃত্যু হয়।

তবে রাজ্যের এই ব্যাখ্যায় তাৎক্ষণিকভাবে সন্তুষ্ট হয়নি হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ-সহ হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশকে। আগামী ১৮ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানিতে জেলা পুলিশ সুপারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।


Share