High Court

চারটি গাছ কাটার শাস্তি হিসেবে চারটি গাছ লাগানোর নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের, পরিবেশের সুরক্ষার ওপর বেশি জোর আদালতের

বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস মানুষের বিরুদ্ধে গাছ কাটার এফআইআর বাতিল করার নির্দেশ দেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই ব্যক্তি যদি আরও গাছ লাগায় তবে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচ্য হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৭:৩৯

চারটি গাছ কাটার ‘শাস্তি’ হিসেবে চারটি গাছ লাগানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। কলকাতার একটি আবাসনে পর পর চারটি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ করেন সেখানকারই এক বাসিন্দা। এই অপরাধে পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চারটি গাছের চারা রোপণের নির্দেশ দিয়েছে এবং তার পুরোপুরি পরিচর্যা করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতার হাই কোর্ট।  

বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস ওই ব‍্যক্তির বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগে এফআইআর বাতিল করারও নির্দেশ দেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ওই ব্যক্তি যদি আরও গাছ লাগায়, তবে তা ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিবেচ্য হতে পারে। হাই কোর্ট বলেছে, “আরও গাছ লাগানো ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতে সাহায্য করতে পারে। তাই গাছ কাটার বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হওয়ায় আবেদনকারীকে কমপক্ষে ৪টি গাছ লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

আবেদনের বিরোধিতা করে, অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, গাছের মাথা দিকের অংশ কাটার অভিযোগ করা হয়েছে। তাই এটি স্পষ্টতই আইনের আওতাধীন। বিপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, "২০০৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বৃক্ষ আইনে সুনির্দিষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকার বা রাজ্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া এই আইনের অধীনে এই ধরনের ঘটনায় কোনও মামলা দায়ের করা হবে না। তিনি যুক্তি দেন, অভিযোগ দায়েরের আগে এই ধরণের কোনও আদেশ পাওয়া যায়নি।

তবে আদালত পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে। হাই কোর্ট বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। গাছ কাটার অভিযোগের ফলে পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালানো উচিত বলে আদালত মনে করছেন।" অতএব, আদালত ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বাতিল করে তাকে কমপক্ষে চারটি গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে।


Share