Special Intensive Revision

এসআইআর নিয়ে জল গড়াল কলকাতা হাই কোর্টে, মামলা দায়ের অনুমতি দিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ

এসআইআরের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা।

এসআইআর নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ ০৩:২৯

ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। এসআইআর কেন করা হচ্ছে বলে কমিশনের কাছে জানতে চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারী। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে।

আদালতের কাছে মামলাকারীর আবেদন, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কেন করা হয়েছে তা জানাক নির্বাচন কমিশন। এর পাশাপাশি হাই কোর্টের নজরদারিতে এসআইআর প্রক্রিয়া করা হোক। মামলাকারীর দাবি, এতো কম সময়ে কীভাবে নির্বাচন কমিশন এতো বড় প্রক্রিয়া শেষ করবে, সেই নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে তাঁর। একইসঙ্গে ওই মামলাকারী আদালতের কাছে এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানোরও আর্জি জানিয়েছেন। এ ছাড়াও, ২০০২ সালের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী।

গত ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ‍্যে সমস্ত বুথে বিএলও নিয়োগ হয়ে গিয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়ে গিয়েছে। এনুমারেশন ফ্রি ছাপানো কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। ৪ নভেম্বরের পর থেকে বাড়ি বাড়ি তা নিয়ে যাবেন বিএলওরা। প্রায় ১৫ কোটি এনুমারেশন ফর্ম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ছাপানো হয়ে যাবে বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। এসআইআরের বিরুদ্ধে বারবার সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরব হয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পানিহাটি গিয়ে বলেন, “বিজেপির নেতা কর্মীরা বাড়িতে এলে তাদের কাছ থেকে তাঁর বাবা-ঠাকুরদাদাপ কাগজ দেখতে চাইবেন। গাছে বেঁধে রাখবেন। লাইটপোস্টে বেঁধে রাখবেন। গায়ে হাত তুলবেন না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি।”

এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপিও। বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকায় একটাও মৃত, দুই জায়গায় নাম থাকা এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের নাম বাদ দিতে হবে। এই বিষয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিএলওরা শুনে রাখুন, তৃণমূলের কথা শুনবেন না। শুনতে যদি হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের কথা শুনুন। জেনে রাখবেন, বিহারে ৫২ জন বিএলও জেলে আছেন। তৃণমূলের কথা শুনলে, বিহারের বিএলওদের মতো হবে।” 


Share