Hospital Broker Arrest

সরকারি হাসপাতালে ফের ‘দালাল চক্র,’ এসএসকেএম ও মেডিকেল কলেজ থেকে দুই দালাল গ্রেফতার

এসএসকেএম ও মেডিক্যাল কলেজে ফের দালালচক্র ধরা পড়ল। বেড পাইয়ে দেওয়ার নামে রোগীর পরিবারকে টাকা দাবি করায় গ্রেফতার দুই দালাল—সচিন রাউত ও গোলাম রসুল। আগেও এমন অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, তবু দুর্নীতি পুরোপুরি থামেনি বলে ক্ষোভ রোগীদের।

সরকারি হাসপাতালে ‘দালালচক্র’।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ নভেম্বর ২০২৫ ০৭:০২

সরকারি হাসপাতালে ‘দালালচক্র’ নতুন নয়। কখনও শয্যা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে, তো কখনও বিভিন্ন পরিষেবা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রোগী পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষিতেই ফের এসএসকেএম এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে পুলিশ দুই দালালকে গ্রেফতার করল।

সরকারি হাসপাতালে রোগীর ভিড় প্রবল। সব সময়ে সহজে বেড মেলে না। বহু রোগীর পরিবার মরিয়া হয়ে শয্যার খোঁজ করেন। সেই অসহায়তাকেই হাতিয়ার করে দালালচক্র সক্রিয় হয়। অভিযোগ, বেড পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আগাম মোটা টাকা দাবি করা হত। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ দু’জনকে পাকড়াও করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কলেজে দালালি করার অভিযোগে সচিন রাউত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা এক রোগীর পরিবারের কাছে তিনি বেড দেওয়ার নাম করে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। রোগীর পরিবার ওই অঙ্ক দিতে অস্বীকার করলে দরাদরি শুরু হয়। শেষে পাঁচ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরেও বেড পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। এরপরই বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের হয় এবং সচিনকে গ্রেফতার করা হয়।

অন্য দিকে এসএসকেএম হাসপাতালেও একই অভিযোগ উঠে এসেছে। রোগীর পরিবারকে পরিষেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগে গোলাম রসুল নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

গত বছর মেডিক্যাল কলেজে একই ধরনের দালালচক্রের অভিযোগে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। রাজ্যের বহু সরকারি হাসপাতালে শয্যা পেতে সমস্যার অভিযোগ বরাবরই শুনতে পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রেই দালাল চক্র টাকা দাবি করে বলে অভিযোগ রোগীর আত্মীয়দের। গরিব পরিবারগুলি সেই টাকা জোগাড় করতে না পারায় চিকিৎসা পরিষেবার সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন। পরিস্থিতি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন ও নানা পদক্ষেপ করেছিল। তবু সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলেই দাবি রোগীদের একাংশের।


Share