Special Intensive Revision

আশ্বাস দিয়েছেন সিইও, মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করার পর দাবি তৃণমূলপন্থী আন্দোলনকারী বিএলও-দের

তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। এর ফলে বিএলও–দের ওপর অস্বাভাবিক কাজের চাপ পড়ছে। বুথ লেভেল অফিসারেরা এসব দাবি নিয়ে সোমবার সকালেই তাঁরা কলেজ স্কোয়ার থেকে একটি মিছিল করেন। সেই মিছিল সিইও দফতরের সামনে পৌঁছোতেই বাধার মুখে পড়ে।

সিইও দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা।
অরুণীমা কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ১০:৫১

সোমবার দুপুর থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। ‘ইসিআই গো ব্যাক’ এবং ‘জ্ঞানেশ কুমারের হাত গুঁড়িয়ে দাও’— এই স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে বিবাদী বাগের বামার লরি বিল্ডিং চত্বর। সোমবার সারা রাত সিইও দফতরের বাইরেই ঘুমোন তাঁরা। ৩০ ঘন্টা পরে উঠে গেল তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভ। তাদের দাবি, সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন। দাবিদাওয়ার বিষয়ে আশ্বাসও দিয়েছেন, তাই তাঁরা বিক্ষোভ তুলে নিচ্ছেন।

রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল দীর্ঘ ৩০ ঘন্টা পরে তৃণমূলপন্থী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেন বলে দাবি করেন তাঁরা। মঙ্গলবার রাতে দফতরের বাইরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন সিইও। শোনার পর সিইও আশ্বাস দেন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সংক্রান্ত বিষয়টি তিনি দিল্লিতে জানাবেন। মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যাবে কি না তা তিনি খতিয়ে দেখবেন। এর পাশাপাশি প্রত্যেক বিএলওকে শংসাপত্র দেওয়া এবং ‘বিএলও অ্যাপের’ সমস্যার সমাধানেও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সিইও তাঁদের জানিয়েছেন। 

তাঁদের অভিযোগ ছিল, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত। এর ফলে বিএলও–দের ওপর অস্বাভাবিক কাজের চাপ পড়ছে। বুথ লেভেল অফিসারেরা এসব দাবি নিয়ে সোমবার সকালেই তাঁরা কলেজ স্কোয়ার থেকে একটি মিছিল করেন। সেই মিছিল সিইও দফতরের সামনে পৌঁছোতেই বাধার মুখে পড়ে। পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করলে আন্দোলনকারীরা তা টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে তুমুল অশান্তি তৈরি হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার পর পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ১৩ জনের প্রতিনিধি দল ডেপুটেশন নিয়ে দফতরে প্রবেশের অনুমতি পান।

তবে ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টের দিকে ফের উত্তেজনা ছড়ায়। সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল ‘এপোয়েন্টমেন্ট’ না দেওয়ায়, কেবিনের বাইরেই বসে পড়েন তাঁরা। সেই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের অধ্যাপক নেতা মণিশঙ্কর মন্ডল। এর পরেই প্রতিনিধিদল দফতরের ভিতরে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় উত্তর কলকাতার বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ বিজেপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা। মধ্যরাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে থাকে পরিবেশ। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন—দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান জারি থাকবে।

কয়েক জন আন্দোলনকারী সিইও দফতরের বাইরেই ঘুমোন। রাস্তার ওপরেই মঞ্চ বেঁধে ধর্ণায় বসে পড়েন বুথ লেভেল অফিসাররা। অভিযোগ, সেখানে বুথ স্তরের আধিকারিকের থেকে তৃণমূলের কর্মীরা বেশি ছিলেন।

এ ছাড়াও, মঙ্গলবার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিনিধিরাও ডেপুটেশন জমা দেন। প্রায় ৩০ ঘণ্টার টানাপড়েনের পর মঙ্গলবার রাতে অবশেষে ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন আন্দোলনরত বিএলওরা।


Share