Dharmatala Incident

‘তিন পুরুষ মনে রাখবে,’ ধর্মতলায় অশান্তির ঘটনায় চিহ্নিত ৭০ জন ‘শুক্রবারি’, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

বিধানসভায় সিপিএম বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।” এ দিন বিধানসভায় শাসকদলের চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে সাংবাদিক পেটানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি বিধায়কেরা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৩৮

শুক্রবার ধর্মতলায় আন্দোলনের নামে অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় ৭০ জন ‘শুক্রবারি’-কে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। শনিবার বিধানসভার অধিবেশনে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ আইনসভায় সদ‍্য পাশ হওয়া গুন্ডা দমন আইন এই প্রথম প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। তিনি বলেন, এমন শাস্তি দেওয়া হবে, তাদের তিন পুরুষ মনে রাখবে।

দিল্লির মতো কলকাতাতেও কমিউনিস্টদের সমর্থিত তথাকথিত আন্দোলন শুরু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনগুলি শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিল করে। তাদের ডাকে ‘অ-ছাত্র’-দের ভিড়ও ছিল। সেই জমায়েত থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। বাদ যায়নি সংবাদিকরা। হেনস্থা করা থেকে শুরুর করে মারধরও করা হয়েছে। ঘটনায় বেশ কয়েক জন সাংবাদিক জখম হয়েছেন। শনিবার বিধানসভায় সেই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, মিছিল থেকে পুলিশকে বারবার প্ররোচনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ সংযত ছিল। তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয়নি।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছ’টি মামলা দায়ের হয়েছে। একটি মামলা এন্টালি থানায় রুজু হয়েছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আপাতত ৭০ জন ‘শুক্রবারি’-কে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। এদের মধ্যে চারজন ‘দাগী দুষ্কৃতী’ রয়েছে বলে জানান তিনি। এদের মধ্যে কেউ ছাত্র নন। নিটের সঙ্গে এদের কোনও যোগাযোগ নেই। বলেন, “রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তানবির ও নিজাম, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এরা পাঁচটিই দাগী দুষ্কৃতী। গুন্ডা দমন আইন সেই কারণেই আনা হয়েছে। এমন ব‍্যবস্থা নেব, একদিন নয়, তিন পুরুষ মনে রাখবে। এই আইনের কতটা প্রয়োজনীয়তা ছিল, এ বার মানুষ তা বুঝতে পারবে।”

ঘটনার সময় পুলিশ যে সংযত ছিল তা-ও শনিবার বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে ওইদিন ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এই নিয়ে বলেন, “পুলিশ যে সংযত ছিল, সেটা সবাই দেখেছে। তেমনই নির্দেশ দেওয়া ছিল। তারা কোনও ফাঁদে পা দেয়নি। মিছিল হচ্ছিল। ডোরিনা ক্রসিংয়ে আসার পর সেখান থেকে জুতো আর বোতল ছোড়া শুরু হয়। সাংবাদিকদের নিশানা করা হয়। চাইছিল, পুলিশ লাঠিচার্জ করুক, নাটক চলুক। কিন্তু পুলিশ সেই সুযোগ দেয়নি। ছ’জন সাংবাদিক গুরুতর জখম হয়েছেন। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।”

এ ছাড়াও, বিধানসভায় সিপিএম বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডিম ছোড়া যদি পশ্চিমবাংলার সংস্কৃতি না হয়ে থাকে, তবে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি নয়।” এ দিন বিধানসভায় শাসকদলের চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়ীর নেতৃত্বে সাংবাদিক পেটানোর প্রতিবাদ জানিয়েছে বিজেপি বিধায়কেরা।

শুক্রবার রাতে আক্রান্ত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, এই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিটের কোনও সম্পর্ক নেই। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বক্তব্য, আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (যিনি ভবানীপুরে হেরেছেন) বারবার ‘শুক্রবার’ শব্দ ব্যবহার করেছেন। মমতা মনে করতেন, শুক্রবার ওরা (মুসমানেরা) একটু আন্দোলন করেই থাকে। ইসলাম ধর্মে শুক্রবারকে জুম্মাবার হিসেবে গণ্য করা হয়। তাই এ দিন সাংবাদিকেরা আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি দুষ্কৃতীদের ‘শুক্রবারি’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সবকটাকে চিহ্নিত করেছি। মার্ক করেছি। আমি আপনাকে বলছি। ‘শুক্রবারি’-রা যারা এ সব করেছে তারা চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। কয়েকটা দিন আপনারা অপেক্ষা করুন। এদের কী করতে হয় তা আমি জানি।”


Share