Arrest

রাতভর তল্লাশি, ট্রাঙ্কভর্তি টাকা-সোনা বাজেয়াপ্ত! ২৮ কোটি নগদ ও ১৫ কেজি সোনা উদ্ধারের মামলায় গ্রেফতার পাথর মাফিয়া মিনার মণ্ডল

বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাঙ্কভর্তি টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে মিনার মণ্ডলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হবে।

গ্রেফতার মিনার মন্ডল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ০১:৩৮

অবশেষে গ্রেফতার করা হল মিনার মণ্ডলকে। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় মহম্মদ মিনারের বাড়ি থেকে বুধবার উদ্ধার হয় প্রায় ২৮ কোটি নগদ টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনার তালিকা তৈরির কাজ চলে বুধবার রাতভর। বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাঙ্কভর্তি টাকা ও সোনা বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে মিনার মণ্ডলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হবে।

ধৃত মিনারকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় বারবার জানতে চাওয়া হয়, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার উৎস কী, এই সম্পত্তির মালিক কে এবং কীভাবে তা তাঁর বাড়িতে এল। তবে সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নেরই উত্তর দেননি তিনি। এ দিকে, মিনারের ছেলে দাবি করেছেন, বাড়িতে এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনা মজুত রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণাই ছিল না। যদিও বীরভূমের পুলিশ সুপার বিদীত রাজ বুন্দেশ জানিয়েছেন, তল্লাশির সময় মিনার নিজেই স্বীকার করেছেন যে উদ্ধার হওয়া নগদ অর্থ ও সোনা টুলু মণ্ডলের অপরাধচক্র বা সিন্ডিকেটের।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ডাকাতির অভিযোগে সাত জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই তদন্তকারীরা অনুব্রত মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার সন্ধান পান বলে দাবি।

ধৃতদের নাম অর্জুন লোহার, শেখ গিয়াসউদ্দিন, শেখ ফরজুদ্দিন, পুলক সাহা, শেখ ফিরোজ আহমেদ, অভিনব ভাতসা এবং রবিকুমার গুপ্ত। বুধবার সিউড়ি আদালত তাঁদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তের সূত্র ধরে মঙ্গলবার গভীর রাতে মহম্মদবাজারের দেউচা এলাকায় মিনারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। সেই অভিযান টানা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চলে।

বুধবার গভীর রাতে পুলিশ সুপার জানান, মিনারের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ প্রায় সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। উদ্ধারের পর রাতভর চলে বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর তালিকা বা ‘সিজ়ার লিস্ট’ তৈরির কাজ। পুরো সময় জুড়ে বাড়িটি ঘিরে রাখে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকালে তদন্তকারীরা একের পর এক ট্রাঙ্ক এবং দুটি আলমারি বাড়ি থেকে বের করে আনেন। মোট ছ'টি ট্রাঙ্ক ও দু'টি আলমারি উদ্ধার করা হয় অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ ওই ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়ি থেকে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, এই ট্রাঙ্ক ও আলমারিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা।

মিনারের বাড়ির বাইরে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল পুলিশের ভ্যান। বাজেয়াপ্ত হওয়া ট্রাঙ্কগুলি পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়, আর আলমারিগুলি অন্য একটি ছোট পণ্যবাহী গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেগুলি নিয়ে মহম্মদবাজার থেকে সিউড়ি ট্রেজারির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় পুলিশ।

এ দিকে, বীরভূমে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় বুধবার মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে জানান, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‘দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।’’ তাঁর আরও দাবি, সরকারি সম্পদ লুট, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন বা তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে যাঁরা সম্পদ গড়ে তুলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।


Share